The mysterious Konark Sun Temple of Odisha. - Esso Pori- Read Now

Latest

সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১

The mysterious Konark Sun Temple of Odisha.

  

The mysterious Konark Sun Temple of Odisha.


The mysterious Konark Sun Temple of Odisha.


 A mysterious gigantic stone chariot of SunGod, the Konark Sun Temple, Konark, Dist.- Puri, Odisha, India.

  (A myth behind the Konark Sun Temple)

  

      কোণার্ক সূর্য মন্দির,                  মন্দিরের আকৃতিবিশিষ্ট   সূর্যদেবতার এক অতি বৃহৎ প্রস্তর রথ, কোণার্ক, জেলা- পুরী, উড়িষ্যা, ভারত।


  ভারতবর্ষে অবস্থিত কয়েকটি সূর্য মন্দিরের মধ্যে উড়িষ্যা প্রদেশের কোণার্ক সূর্য মন্দির  হল উড়িষ্যা স্থাপত্য রীতির অন্যতম এক সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ ও একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।


  খ্রীষ্টের জন্মের বহু পূর্বে প্রাচীন যুগ থেকে ভারত, চীন, মিশর, জাপান প্রভৃতি বহুদেশে সূর্য মন্দির নির্মানের অনেক নিদর্শন রয়েছে এবং ভারতে কাশ্মীরের মার্ত্যণ্ড সূর্য মন্দির, কোণার্ক সূর্য মন্দির, গুজরাটের মধেরা সূর্য মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।


 কোণার্ক সূর্য মন্দিরটি প্রাচীন পূর্বাঞ্চলীয়গঙ্গারাজবংশের(8th-15th) অন্যতম মহারাজা  প্রথম নরসিংহদেবের নির্মিত সূর্যালোক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানের এক প্রাচীন প্রয়োগ ক্ষেত্র।


  1984 সালে কোণার্ক সূর্য মন্দিরটি UNESCO কর্তৃক World Heritage Site হিসাবে সাংস্কৃতিক পর্যায়ে আখ্যায়িত  হয়েছে এবং বর্তমানে মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার ভার ASI  (Archaeological Survey of India) গ্রহণ করেছে।


  কোণার্ক মন্দিরে অধিষ্ঠিত সূর্য দেবতার পূজার্চনা আজ পর্যন্ত কোনদিন অনুষ্ঠিত হয় নি, যা আজও দর্শকবৃন্দের বিস্ময় উদ্রেক করে।


  1904 সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জনের উদ্যোগে ব্রিটিশ  সরকারের প্রযুক্তিবিদদের  দ্বারা প্রাচীন কোণার্ক মন্দিরটির আংশিক সংস্কার করে, মন্দিরটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।


  কোণার্ক মন্দিরটি ভারতের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ,  ঐতিহ্যমণ্ডিত সৌধ হিসাবে 10 টাকার ভারতীয় currency note এর উল্টো পিঠে এই মন্দিরের চিত্র ছাপা রয়েছে।


  * উড়িষ্যার কালো প্যাগোডা ও সাদা প্যাগোডা।

  (Black Pagoda and White Pagoda of Odisha state).


   বিগত সপ্তদশ শতকের শেষভাগে (1676 সাল) বে অফ বেঙ্গলের(Bay of Bengal) উপর দিয়ে যাতায়াতকারী, ইউরোপীয় নাবিকগণের লেখা বিভিন্ন ভ্রমণবৃত্যান্ত থেকে জানা যায় যে, উড়িষ্যার কোণার্ক সূর্য মন্দির 'ব্ল্যাক প্যাগোডা' ও পুরীর জগন্নাথ মন্দির 'হোয়াইট প্যাগোডা' নামে, উল্লেখযোগ্য পথনির্দেশক স্থলভাগ হিসাবে, তারা চিহ্নিত করেছিল।


  সেই নাবিকদের দৃষ্টিতে বহুস্তর বিশিষ্ট কালো রঙের এক বিশাল আকৃতির চূড়া সমুদ্রপথে যাবার সময়, দিক ও স্থলভাগের দূরত্ব নির্ণয় করতে সাহায্য করত এবং সাদা রঙের শিখরটি ছিল পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দির।


         * কোণার্ক সূর্য মন্দিরের গঠনশৈলী।


  পাথরের রথ আকৃতির এই বিশাল মন্দিরটি উড়িষ্যার উত্তর-পূর্ব সমুদ্র উপকূলে, প্রায় ন'শো বছর আগে এক বিস্ময়কর স্থাপত্য হিসাবে নির্মিত হয়েছিল।


  কোণার্ক মন্দিরটি হিন্দুদের আরাধ্য, ক্লোরাইট প্রস্তর নির্মিত সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত হলেও বর্তমানে এখানে কোন পূজার্চনা করা হয় না।


  মন্দির প্রাঙ্গনে 30মি(100ফুট) উচ্চতা বিশিষ্ট একটি প্রস্তররথ এবং  তার উত্তর-দক্ষিণ দুই দিকে অতিকায় চক্রসমূহ ও গমনোদ্যত ঘোটকীগুলি পাথর কেটে তৈরী করা হয়েছিল।


  অরুণদেব চালিত রথের সপ্ত ঘোটকী হল জাগতী, বৃহতি, ঊশ্নী, ত্রিস্তুভা, গায়ত্রী, পংক্তি ও অনুষ্টুভা এবং অন্ধকার দূর করতে দুই দেবী ঊষা ও প্রত্যূষা সরথির পশ্চাৎ থেকে তীর নিক্ষেপ করছেন।


  চতুর্থ অশ্বের উপর আসীন অরুণদেব তাঁর কিরণ দিয়ে অন্ধকারকে দূরীভূত করতে করতে, সপ্তাশ্বযুক্ত বারো জোড়া চক্রের রথে চড়ে সমস্ত দিন ব্যাপী আগিয়ে চলেছেন।


 সপ্ত অশ্ব সপ্তাহের সাত দিনের প্রতীক, আর এই বারোজোড়া অর্থাৎ চব্বিশটি চাকা হল হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে বারো মাসের ও চব্বিশটি পক্ষের প্রতীক। চাকার মধ্যের আটটি দণ্ড চব্বিশ ঘণ্টার দিনমানে, অষ্টপ্রহরের প্রতীক।


  সূর্যদেবের রথের উত্তর-দক্ষিণে অবস্থিত চাকাগুলিকে সময় বোঝার জন্য সূর্যঘড়ি রূপে এখনও ব্যবহার করা যায়।


  মন্দিরের প্রবেশদ্বারে যুদ্ধরত দুটি সিংহ, দুটি রণহস্তীকে পীড়ন করছে, যা আপাত দৃষ্টিতে শুভ ও অশুভের লড়াই বলে মনে হলেও, সেযুগে রাজা স্থপতিদেরকে কোন ভাবধারায় এই প্রতীক তৈরীর নির্দেশ দান করেছিলেন, তা আজ অজ্ঞাত।


       * অবস্থান ও স্থাপত্য রীতি 


  কোণার্ক সূর্য মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের প্রাচীন উপাস্য দেবতা সূর্যের একটি উপাসনা স্থল যার বিশালতা, স্থাপত্য শিল্প, ভাস্কর্য,  শৈল্পিক আবেদন প্রভৃতি আজ এই ভগ্ন অবস্থাতেও ভ্রমণ পিপাসুদের বিস্ময় উদ্রেক করে।


  কৌণিক অবস্থানগত বিষয়ের কারণ অজ্ঞাত হলেও, প্রধানত মনে করা হয় যে, কোণা অর্ক (কৌণিক অবস্থানে সূর্য) অর্থে তিনটি মন্দিরের ত্রিভূজাকৃতির একটি কোণ হল কোণার্ক, আর একটি কোণ পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দির ও অপর একটি কোণ হল ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ শিব মন্দির।


  কোণার্ক মন্দিরে সূর্যের আলোকের সারা দিনভর চলা  আলোর প্রতিফলনকে এক অভূতপূর্ব স্থাপত্য রীতিতে দর্শনীয় করে তোলা হয়েছে।


  প্রাচীন উড়িষ্যার "শিল্প শাস্ত্র" গ্রন্থ অনুসারে কোণার্ক মন্দিরের কেন্দ্রীয় প্রতিফলনটিকে "রাহা" বলা হলেও পার্শ্ব-প্রতিফলনের ফলে দর্শনীয় 'আলো-ছায়া'র খেলাকে স্থানীয় ভাষায় "কণিকা পাগে" বলা হয়।


  কোনার্ক মন্দিরের গঠনে তিন ধরণের প্রস্তর, ক্লোরাইট, ল্যাটেরাইট ও খুবই অল্প পরিমাণে খোন্ডালাইট ব্যবহৃত হয়েছিল।


  বিভিন্ন ধরণের এই প্রস্তরগুলি, মন্দির ও সেখানে নির্মিত ভিন্ন ভিন্ন স্থাপত্যের ক্ষেত্রে কোথাও স্বল্প পরিমাণে, কোথাও অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছিল অথচ আশ্চর্য্যের বিষয় হল এধরণের প্রস্তর এই এলাকায় পাওয়াই যায় না, তাই দূরবর্তী কোন এক স্থান থেকে নদী অথবা সমুদ্রপথে সেগুলি আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।


  মনে করা হয় যে, মন্দির গঠনের ক্ষেত্রে প্রস্তরের ব্লকগুলি বিভিন্ন উপায়ে চূড়া অবধি তোলা হয়েছিল বলে পণ্ডিতদের অভিমত, তবে সংযোগ  স্থলগুলির মসৃনতা এতই নিখুঁত যে তা বাইরে থেকে বোঝাই যায় না।


    বর্তমানে রথাকৃতির কোনার্ক সূর্য মন্দিরের প্রাঙ্গনটি 10.62হেক্টর (26.2একর) স্থানের উপর প্রস্তর খোদিত 100ফুট উচ্চ রথের বিশাল আকৃতির চক্রসহ বিরাজমান রয়েছে, যা অতীতে প্রায় 200ফুট(61মিটার) উচ্চ ছিল।


  কোনার্ক সূর্য মন্দিরটি প্রাচীনকালে অষ্টম শতাব্দীতে কাশ্মীর উপত্যকায় প্রচলিত সূর্য দেবতার উপাসনার(মার্তণ্ড সূর্য মন্দির) সাংস্কৃতিক ভাবধারার, পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচলিত হওয়ার এক অপূর্ব নিদর্শনস্বরূপ বিরাজিত রয়েছে।


  এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ভারতবর্ষে হিন্দু মন্দির নির্মানের ক্ষেত্রে, প্রধান তিনটি স্থাপত্যরীতি হল 'নাগারা',যা উত্তরভারতে দেখা যায়, দক্ষিন ভারতে 'দ্রাবিড়ীয়' ও কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় ভারতে  'ভেসারা' রীতি প্রচলিত ছিল।


  উড়িষ্যারীতির স্থাপত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রতিষ্ঠিত দেবতার মূল  মন্দিরটি চতুর্দিকে প্রাচীর বেষ্টিত একটি চতুষ্কোণ প্রাঙ্গনের উপর পিরামিড আকৃতির শিখর বা চূড়া বিশিষ্ট ও একটি জগমোহন বা সমবেত হওয়ার গৃহ সমন্বয়ে নির্মিত হয়ে থাকে।


  মন্দিরে গাত্রের বহির্ভাগ বিভিন্ন দেবদেবী ও পৌরাণিক কাহিনী, যেমন, রামায়ণ, মহাভারত ও বিভিন্ন পৌরাণিক অবতার, জনজীবন সংক্রান্ত চিত্র, মিথুনরত নরনারী, বীনা প্রভৃতি বাদ্য যন্ত্রের খোদিত ও চিত্রায়িত মূর্তির দ্বারা মন্দিরের সৌন্দর্যায়ন   করা হয়েছিল।


  কোণার্ক সূর্য মন্দিরটি একাদশ শতাব্দীতে উড়িষ্যারই ভুবনেশ্বরের লিঙ্গরাজ মহাদেবের মন্দিরের 'খাখারা' রীতি (Khakhara style) অনুসারে নির্মিত হয়েছিল, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল, একটি বিশাল দরজাসহ সুউচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত চতুষ্কোণ প্রাঙ্গনের ভিতর নাটমণ্ডপ, ভোগশালা, সভামণ্ডপ  ও মূলমন্দির অবস্থিত থাকে। 


  কোণার্ক মন্দিরের শিখর কালক্রমে অবলুপ্ত হয়েছে এবং নাটমণ্ডপ, ভোগশালা প্রভৃতির আভ্যন্তরীণ ও বহির্ভাগের  খোদিত বিভিন্ন মূর্তি ও চিত্রসমূহ আজ হারিয়ে গিয়েছে, তথাপি আজও যা অবশিষ্ট আছে তা দর্শনার্থীর বিস্ময় উদ্রেক করে।

 

                প্রচলিত জনশ্রুতি


  কোণার্ক সূর্য মন্দিরের বিষয়ে দু-একটি লোকপ্রবাদ প্রচলিত আছে যে মহারাজা প্রথম নরসিংহদেব মন্দির গঠনের ক্ষেত্রে আদেশ দিয়েছিলেন যে, বারোশত কর্মী-স্থপতি, বারো বৎসরের মধ্যে মন্দিরটির নির্মান সম্পূর্ণ করবে।


  কর্মী-স্থপতির সংখ্যা ও সময়কাল কোনভাবেই লঙ্ঘন করা যাবেনা, তা করলে সবাই মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হবে ও মন্দিরটি পরিত্যক্ত হবে।


 প্রধান স্থপতি বিশু মহারাণা গৃহ থেকে স্থাপত্যকর্মে যোগদানের জন্য যখন বেরিয়ে আসেন তখন তাঁর স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন।


  তাঁর সেই পুত্র বারো বৎসর বয়সে পিতার সন্ধানে পিতার কর্মস্থলে আসে ও সেখানে তখন তার পিতা প্রধান স্থপতি মন্দির চূড়ার মূল শিখর ও তৎসংলগ্ন একটি আতস কাঁচ লাগানোর কাজের কৌণিক অবস্থান, কোনমতেই সম্পন্ন করতে পারছিলেন না।


  বিশু মহারাণার নাবালক পুত্র কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পিতাকে সেই শিখর স্থাপনের ক্ষেত্রে সহযোগীতা করে এবং তারই কৃতিত্বে শিখর সংস্থাপন সুসম্পন্ন হয়।


  কিন্তু মহারাজের কাছে খবর যায় যে বারোশ' একজন শ্রমিক কাজে নিযুক্ত হয়েছে, ফলে সকল শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ড অবশ্যম্ভাবী হওয়ায়, স্থপতিপুত্র মন্দির শিখর থেকে শূন্যে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে, কোন কোন মতে, সেই অপমৃত্যুর জন্যই নাকি মন্দিরে সূর্য দেবতার কোনদিন পূজা হয়নি।


  এছাড়া, কথিত আছে যে, দ্বাপর যুগে প্রভূ শ্রীকৃষ্ণ স্ত্রীর সাথে বিশ্রম্ভালাপে থাকাকালীন এক ঘনিষ্ট মূহুর্তে পুত্র শাম্ব সেখানে উপস্থিত হওয়ার অপরাধে পিতার দ্বারা অভিশপ্ত হন। 


  অভিশপ্ত পুত্র শাম্ব কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত হলে মহামুনি নারদের পরামর্শে তিনি সূর্যালোকের সাহায্যে রোগমুক্তির আকাঙ্খায় সাগরসঙ্গম, কোণার্ক প্রভৃতি স্থানে এসেছিলেন।


  * কোণার্ক সূর্য মন্দিরের চন্দ্রভাগা মেলা ও শ্রীকৃষ্ণ পুত্র শাম্বের কাহিনী।


  কোণার্ক সূর্য মন্দিরে চন্দ্রভাগা মেলাকে, বিশ্বখ্যাত পুরীর প্রভূ জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পর দ্বিতীয় জনপ্রিয় উৎসব হিসাবে  গণ্য করা হয়।


  প্রাচীন চন্দ্রভাগা নদীর তীরে, এই মেলা মাঘ মাসের সাত তারিখে(ইং ফেব্রুয়ারী) অনুষ্ঠিত হয় বলে, একে "মাঘ সপ্তমী মেলা"ও বলা হয়।


  বর্তমানে জনসাধারণ, কৃতপাপ  মুক্তির  জন্য পবিত্র চন্দ্রভাগা নদীতে(যা এখন একটি ছোট্ট পুকুরে পরিণত হয়েছে) স্নান করে সূর্যদেবের মন্দিরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকে, অনেকে মাত্র তিন কিমি দূরবর্তী চন্দ্রভাগা  সমুদ্র সৈকতেও স্নান করেন।


  কথিত আছে যে, নারদ ঋষির উপদেশে শাম্ব চন্দ্রভাগা নদীতে স্নান করে তার তীরে রোগমুক্তির নিমিত্ত, দীর্ঘ বারো বৎসর  সূর্যদেবের তপস্যা করেন ও রোগমুক্ত হন।


  * কোণার্ক সূর্য মন্দির ধ্বংসের কারণ।


  মন্দিরটির ধ্বংসের সঠিক কারণ না জানা গেলেও, ভিন্ন ভিন্ন মতানুসারে, প্রাকৃতিক কারণে স্বাভাবিকভাবে পরিত্যক্ত মন্দিরটি ধ্বংস হয়েছে, অথবা পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে সংগঠিত মুসলিম সেনার আক্রমনকেও কেউ কেউ দায়ী করেন।


  প্রাচীনকালের উড়িষ্যা রাজ্যের ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায়, তাতে প্রমাণ হয় যে, কোণার্ক মন্দিরের মূল্যবান মণিরত্নখচিত প্রধান দেবতা সূর্যদেবের যে বিশাল মূর্তি ছিল, প্রাকৃতিক কারণে, তা বিনষ্ট হয়।


   তাছাড়া, বিভিন্ন সময়ে বহিঃ শত্রুর আক্রমনের ফলেও কিছু কিছু মূল্যবান প্রত্নতাত্বিক সম্পদ লুণ্ঠিত ও বিনষ্ট হয়েছে।


  বাংলার সুবেদার সুলতান সুলেমান কারনানির সেনাপতি হিসাবে কালাপাহাড় 1508খৃঃ কোণার্ক সূর্য মন্দির আক্রমন, ধ্বংস ও লুন্ঠন করেন।


তৎকালীন খুরদার রাজা পুরুষোত্তম দেবের সুযোগ্য পুত্র রাজা নরসিংহ দেব অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে, মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত সূর্যদেবতার কারুকার্যমণ্ডিত বিশাল মূর্তিটি 1628খৃঃ পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।


  * কয়েকটি জ্ঞাতব্য বিষয় :-


  * প্রধান দেবতা - সূর্যদেব।

  * খোলা ও বন্ধের সময় :- 6.00am-8.00pm (সপ্তাহের প্রতিদিন খোলা হয়)।

  * প্রবেশ মূল্য :- ভারতীয়দের জন্য Rs 40.00 ও বিদেশীদের জন্য 600 INR(Except BIMSTEK and SAARC Countries)।  

  * প্রত্যহ সন্ধা 7.00pm-এ আলো-ছায়ার খেলা দেখার জন্য প্রবেশমূল্য :- মাথাপিছু Rs 30.00 প্রত্যেক দর্শনার্থীকে একটি head phone দেওয়া হয় ও শোনার জন্য তারা ইংরাজী, হিন্দী ও ওড়িয়া ভাষার মধ্যে একটি বেছে নিতে পারবেন।

  * সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা :- 2m(7ft)।


  * কিভাবে যাবেন :- 

  

  * বিমানপথ :- বিজু পট্টনায়ক

 ভুবনেশ্বর, উড়িষ্যা (60 কিমি)।

  * রেলপথ :- নিকটবর্তী পুরী রেল স্টেশন (35 কিমি) ।

  * সড়ক পথ :- কোণার্ক সূর্য মন্দরটি ভারতবর্ষের সমস্ত শহর এলাকা থেকে সড়কপথে সংযুক্ত রয়েছে।

  

   * পার্শ্ববর্তী দর্শনীয় স্থান :- 


 1) চন্দ্রভাগা বীচ, 2)কোণার্কের নৃত্য উৎসব(প্রবেশমূল্য প্রত্যেকের জন্য Rs 400.00), 3) অষ্টরঙ্গ বীচ, 4) পুরীর জগন্নাথ মন্দির, 5) ধৌলি শান্তি স্তুপ, 6) বারবাটি ফোর্ট কটক, 7) ভুবনেশ্বরের খণ্ডগিরি গুহাসমূহ, 8) ভুবনেশ্বর লিঙ্গরাজ মন্দির,  9) ডানদিকে ঝুঁকে থাকা হুমাদুমা হেলানো মন্দির(পিসা মান মন্দিরের পর পৃথিবীতে দ্বিতীয়), 10) রামচণ্ডীপুর বীচ, ইত্যাদি।


  সুধী দর্শকবৃন্দ, লেখাটি ভালো লাগলে পরিচিতজনদের নিকট শেয়ার করুন, মন্তব্য করুন ও আরো এরকম লেখা পেতে আমাদের ব্লগটির প্রতি লক্ষ্য রাখুন। ধন্যবাদ।