List of Jyotirlonga Temples, according to their height from sea level
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার নিরিখে ভারতবর্ষের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির সমূহের ক্রমানুযায়ী অবস্থান ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
1. কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
কেদারনাথ, জেলা রুদ্রপ্রয়াগ, উত্তরাখণ্ড।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার নিরিখে সর্বোচ্চ জ্যোতার্লিঙ্গ মন্দির কেদারনাথ।
বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র বদ্রীনাথধাম যাত্রাপথে অপর এক শৈব পূণ্যধাম কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির অবস্থিত।
প্রাচীন পুরাণ গ্রন্থ স্কন্দ পুরাণ ও শিব পুরাণ অনুসারে, এই কেদারনাথধামের উল্লেখ রয়েছে।
কথিত আছে, এই কেদারনাথধাম মহাদেবের প্রিয়তম স্থান ও তিনি এখানে বাস করেন।
কেদারনাথ মন্দিরটি গাড়োয়াল পার্বত্য রেঞ্জের পূণ্যতোয়া মন্দাকিনী নদীর নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত।
কেদারনাথ মন্দির এলাকা চরম আবহাওয়া জনিত কারণে বৎসরে মাত্র ছয় মাস খোলা থাকে।
এপ্রিল মাসের (বৈশাখ) অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে নভেম্বরের কার্তিক পূর্ণিমা অবধি মন্দির খোলা থাকে।
পরবর্তী অবশিষ্ট ছয়মাস প্রধান দেবতা জ্যোতির্লিঙ্গ মহাদেবকে স্বল্পোচ্চ উখীমঠে নামিয়ে আনা হয় ও সেখানে প্রত্যহ যথারীতি তাঁর পূজার্চনা করা হয়।
* প্রধান দেবতা :- কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ,
* অবস্থান :- কেদারনাথ, উত্তরাখণ্ড,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা :- 3,583মিটার/11,755ফুট, প্রথম স্থান,
* প্রধান উৎসব :- মহাশিবরাত্রি,
* স্থাপত্যরীতি :- হিমালয় অঞ্চলের উত্তর-ভারতীয় স্থাপত্য।
2. ভীমশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
পুনে, মহারাষ্ট্র, ভারত।
মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার নিরিখে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
পশ্চিম ভারতের সহ্যাদ্রি পর্বতে এই ভীমশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি অবস্থিত।
পূণ্যার্থীগণ যদি প্রত্যহ সকালে সূর্যোদয়ের পর ভক্তিসহকারে মন্দির দর্শন করেন, তাহলে তাঁদের সপ্ত-জন্মের সমস্ত পাপ ক্ষয় হয় ও তাঁরা স্বর্গে প্রবেশের অধিকার লাভ করেন।
ভীমশঙ্কর পার্বত্য এলাকা থেকে ভীমা নদী উৎপন্ন হয়ে উত্তর-পূর্বমুখে প্রবাহিত হয়ে রাইচূরের নিকট পূণ্যতোয়া কৃষ্ণা নদীতে পতিত হয়েছে।
প্রাচীন মন্দিরটি পাণ্ডবদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল বলে কথিত আছে।
নাগারা স্থাপত্যরীতিতে গঠিত ত্রয়োদশ শতকে তৈরী হলেও,এটি বেশ পরিশীলিত ও জাঁকজমকপূর্ণ মন্দির হিসাবে খ্যাতিলাভ করেছে।
অষ্টাদশ শতকে নানা ফড়নবীশ এখানে 'শিব মণ্ডপ' টি নির্মান করেন।
রোমান শিল্পরীতিতে তৈরী মাতা মেরী ও প্রভূ যীশুর মূর্তি সম্বলিত একটি অনির্বচনীয় সৌন্দর্য্যমণ্ডিত বিশালাকৃতি ঘণ্টা 13ই মে 1739খৃঃ এই মন্দিরে চিমাজী আপ্পা কর্তৃক প্রদত্ত হয় ও তা আজও মন্দিরের সম্মুখভাগে বিদ্যমান।
* প্রধান দেবতা :- ভীমশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা :- 990.6metre/3,250ফুট, দ্বিতীয় স্থান,
* খোলা বন্ধের সময় :- সকাল 4.30am - রাত্রি 9.30pm,
* প্রধান উৎসব :- মহাশিবরাত্রি।
3. সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
বেরাবল, গির জেলা, সৌরাষ্ট্র, গুজরাট, ভারত।
মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার নিরিখে তৃতীয়।
সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি প্রথম জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হিসাবে গুজরাটের পশ্চিম উপকূলে বেরাবলের নিকট প্রভাস পত্তনে অবস্থিত।
কথিত আছে, একদা প্রজাপতি দক্ষ তাঁর কন্যাদের অভিযোগক্রমে জামাতা সোমদেব তথা চন্দ্রদেবকে ক্ষয়িত হওয়ার অভিশাপ দেন।
চন্দ্রদেব, তাঁর 27 জন পত্নীর মধ্যে কেবলমাত্র রোহিনীদেবীকেই ভালোবাসতেন।
সোমদেব শাপমুক্তির জন্য প্রভাস পত্তনে, সরস্বতী, কপিলা ও হিরণ এই তিননদীর ত্রিবেনী সঙ্গম স্থলে স্নান করে মহাদেবের তপস্যা করেন ও আংশিক শাপ মুক্ত হন।
ফলে বৃদ্ধি ও ক্ষয় উভয়ই হতে থাকে।
সোমদেব এখানে মহাদেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তাঁর পূজা করেন।
মন্দিরটি বারংবার (সতেরো বার) মুসলিম আক্রমনকারী ও শাসকদের দ্বারা ধ্বংস ও লুণ্ঠিত হয়েছে এবং স্থানীয় রাজা-মহারাজাদের প্রচেষ্টা ও অর্থানুকুল্যে পূণর্নির্মিত হয়েছে।
পুরাকালের নির্মিত মন্দিরটি 649 খৃঃ নাগাদ বল্লভীর ' যাদব রাজা'গণ তৈরী করেন ও 725খৃঃ সিন্ধের আরব শাসনকর্তা আল জুনায়েদ কর্তৃক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
এইভাবে প্রায় সতেরোবার ধ্বংস ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে অবশেষে স্বাধীনোত্তর ভারতের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও তাঁর মৃত্যুর পরে ফুড অ্যাণ্ড সাপ্লায়েজ মন্ত্রী কে.এম.মুনশির উদ্যোগে মন্দিরটি নির্মিত হয়।
ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ, 11ই মে 1951 উদ্বোধন করেন।
* প্রধান দেবতা :- সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা :- 975.36মিটার, তৃতীয় স্থান,
* খোলা ও বন্ধের সময় :- সকাল 6টা ও রাত্রি 10টা,
* স্থাপত্য রীতি :- চালুক্য রীতিতে গুজরাটের তৎকালীন বিশিষ্ট্য স্থাপত্যশিল্পী সোমপুরা স্যালাটের সুনিপুন হস্তে "কৈলাশ মহামেরু প্রাসাদ" ধাঁচে নির্মিত হয়।
মন্দিরের প্রধান শিখর প্রায় 15মিটার উচ্চ ও 8.2মিটার লম্বা ধ্বজা দণ্ড পবিত্র ধ্বজাসহ মন্দির শীর্ষে উড্ডীয়মান।
* প্রধান উৎসব :- মহা শিবরাত্রি, শ্রাবণ ও কার্তিক মাসের সোমবারগুলি।
4. ত্র্যম্বকেশ্বরম্ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
ত্র্যম্বকেশ্বর তহশিল, শ্রীমৎ পেশোয়া পথ, ত্র্যম্বক, জেলা নাসিক, মহারাষ্ট্র, ভারত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতায় ভারতবর্ষে অবস্থিত এই জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি চতুর্থস্থানে রয়েছে।
ভারতবর্ষের মধ্যে বৃহত্তম পবিত্র গোদাবরী নদীর উৎসস্থলে ইন্দৌরের ফড়নবীশ শ্রীমৎ সর্দার রাওসাহেব পার্নেকর 'কুশবর্ত কুণ্ড' নামে একটি পবিত্র কুণ্ড নির্মান করেন।
বর্তমান মন্দিরটি পেশোয়া বালাজী বাজীরাও কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের এই ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দিরে হিন্দু বংশতালিকা রেজিষ্টার সুরক্ষিত আছে।
মন্দিরটি ব্রহ্মগিরি, নীলগিরি ও কালগিরি এই তিন পর্বতের মধ্যে অবস্থিত।
এখানে, মহাদেবের প্রতিরূপ হিসাবে প্রভূ ব্রহ্মা, প্রভূ বিষ্ণু ও প্রভূ রুদ্রদেব এই ত্রিমূর্তি প্রতিমা অবস্থিত রয়েছে।
এই তিন দেবতার মূর্তির মস্তক রত্নখচিত মুকুট দ্বারা শোভিত ও স্বর্ণ মুখাবরণ দ্বারা আবৃত থাকে।
কথিত আছে, ঐ মুকুটসমূহ হীরক, এমারেল্ড ও বহুমূল্য প্রস্তরখচিত এবং তা পাণ্ডবদের কাল থেকে রয়েছে।
প্রভূ মহাদেবের মুকুটটি প্রতি সোমবার বিকেল 4-5টা ভক্তদের প্রদর্শিত হয়।
মন্দির প্রাঙ্গনে প্রায় 28মি/30মি (92ফুট/ 98ফুট) আকৃতি বিশিষ্ট পুষ্করিণীটিকে 'অমৃতবর্ষিণী' নামে অভিহিত করা হয়।
মন্দিরে গঙ্গাদেবী, জলেশ্বর, রামেশ্বর, গৌতমেশ্বর, কেদারনাথ, রামচন্দ্র, শ্রীকৃষ্ণ, পরশুরাম ও লক্ষ্মী-নারায়ণ প্রভৃতি দেব-দেবীর মূর্তি রয়েছে।
মন্দিরটি সম্পূর্ণ কালো প্রস্তর নির্মিত এবং মনোরম স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
ব্রহ্মগিরি পর্বতের সানুদেশে মন্দিরটি অবস্থিত এবং ঐ পর্বত থেকে গোদাবরী নদীর তিনটি উৎসধারা নির্গত হয়েছে।
* অবস্থান :-
* মন্দিরটি নাসিক নগরী থেকে 28কিমি ও নাসিক রোড স্টেশন থেকে 40কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
* প্রধান দেবতা :- ত্র্যম্বকেশ্বরম্ মহাদেব জ্যোতার্লিঙ্গ,
*ধরণ :- হেমাদপন্থী,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা :- 914.4 মিটার/3000ফুট, চতুর্থ স্থান,
* বর্তমান মন্দির :- পেশোয়া বালাজী বাজীরাও কর্তৃক 1740 থেকে 1760খৃঃ মধ্যে নির্মিত হয়। ভিআইপিদের জন্য Rs200/ সাধারণের প্রবেশ মূল্য নাই
* সঠিক সময় :- অক্টোবর - মার্চ,
** বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে মন্দির বন্ধ আছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুসরণীয়।
5.মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
শ্রীশৈলম্, অন্ধ্রপ্রদেশ, ভারত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার মাপকাঠিতে মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির পঞ্চম স্থানে অবস্থান করে।
হিন্দু পুরাণ অনুসারে, প্রধান দেবতা, এই লিঙ্গরূপী মহাদেব জ্যোতির্লিঙ্গ জুঁইফুল (তামিল ভাষায় মল্লিকা) দ্বারা পূজিত অন্যমতে, মল্লিকা, দেবী পার্বতীর নাম ও অর্জুন (মহাদেবের ভিন্ন নাম) রূপে, মল্লিকার্জুন নামে এখানে বিরাজ করেন।
ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি করতে শিব ত্রিভূবন জুড়ে এক অনাদি অনন্ত গর্তের সষ্টি করেন ও তার মধ্যে উজ্জ্বল জ্যোতিরূপে নিজেকে প্রকাশ করেন।
এর দ্বারা প্রমানিত হয় যে তিনি আদি-অন্তহীন, তিনি অনাদি অনন্তরূপে ত্রিলোকে বিরাজিত।
ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে সেই জ্যোতির্লিঙ্গের আদি-অন্ত খুঁজে দেখতে বলেন, ব্রহ্মা, মিথ্যা কথা বলেন, যে তিনি ঊর্দ্ধদেশ দেখেছেন ও বিষ্ণু সত্য বলেন, যে তিনি অন্ত খুঁজে পাননি।
ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যে শাশ্বতকাল ধরে পৃথিবীতে কোন মন্দিরে তিনি পূজিত হবেন না
ঐতিহ্য
সাতবাহন বংশের রাজত্বকালে লিখিত একটি শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, যাতে বলা হয়েছে মন্দিরটি 2য় শতাব্দীতেও বিদ্যমান ছিল।
অতি সাম্প্রতিককালে, বিজয়নগরের রাজা হরিহর-1 কিছু নবতর সংযোজন করেন।
বীরশেরোমণ্ডপম্ ও পাতালগঙ্গা সিঁড়িগুলি রেড্ডীদের রাজ্যের আমলে তৈরী হয়েছিল।
স্থাপত্য ও ভাস্কর্য
মন্দির প্রায় 2 হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ও চারটি গোপুরম্(gateway) বিশিষ্ট্য।
এলাকা চত্বরে অনেকগুলি মন্দির রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান মল্লিকার্জুন ও ভ্রমরাম্বা মন্দির।
মন্দির এলাকায় বিভিন্ন গৃহের মধ্যে বিজয়নগরের রাজত্বকালে নির্মিত মুখমণ্ডপটি উল্লেযোগ্যভাবে প্রধান।
মন্দিরটি পূর্বমুখী ও নন্দীকেশ্বরের বিশাল মূর্তিসহ কেন্দ্রীয় মন্ডপটি বহু কারুকার্যখচিত অনেকগুলি স্তম্ভ দ্বারা সজ্জ্বিত রয়েছে।
চারিদিকে 183মিটার (600ফুট) লম্বা, 152মিটার (499ফুট) চওড়া ও 8.5মিটার (28ফুট) উচ্চ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত।
এখানে বহু স্থাপত্য রয়েছে যেগুলির প্রান্তভাগ একে অন্যকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।
কথিত আছে, শ্রীরাম কর্তৃক সহস্র লিঙ্গম্(1000লিঙ্গম্) ও আরও পাঁচটি লিঙ্গম্ পাণ্ডবদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
প্রথম প্রান্তভাগে 'আয়না হলে' (mirror hall) মহাদেবের নটরাজ মূর্তি বিরাজ করছে।
ধর্মীয় দিক থেকে শিবের এই জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি শ্রেষ্ঠের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসাবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
মূল মন্দিরে যাওয়ার পথে,শিখরেশ্বর মন্দির দর্শন করলে পূনর্জন্ম থেকে অব্যাহতি (মোক্ষলাভ) পাওয়া যায়।
কৃষ্ণানদীকে এখান পাতলগঙ্গা বলা হয় ও নদীতে পৌঁছাতে 852টি সিঁড়ি ভেঙ্গে নীচে নামতে হয়।
পুনর্নির্মান প্রক্রিয়া
নিজামের আমলে মন্দিরটিকে ভেঙ্গে শোচনীয় পরিস্থিতি করা হয় এবং এবং মারাঠা গভর্নর কর্তৃক,ধর্মপ্রাণা রানী অহিল্ল্যাবাঈ হোলকারকে পুনর্নির্মান কার্য্যে সহায়তা দানে অনুরোধ করা হয়। তিনি সহায়তা প্রদান করেন।
* দেবতা: মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা: 862.584মিটার/2830ফুট, পঞ্চম স্থান,
* খোলা ও বন্ধের সময় : 5.30am-9.30pm(পরিবর্তন সাপেক্ষ),
* প্রধান উৎসব : মহা শিবরাত্রি,
* সঠিক সময়: অক্টোবর-ফেব্রুয়ারী,
কিভাবে যাবেন :-
মন্দিরটি কুর্নুল জেলা শহর থেকে 180কিমি ও হায়দরাবাদ থেকে 213কিমি দূরত্বে অবস্থিত।
রেলপথে এখানে আসতে হলে, যাত্রীদের মারকাপুর বা তারুপাডু স্টেশন থেকে কাচেগুড়া - গুণ্টুর প্যাসেঞ্জার ট্রেন গুড্ডালুর স্টেশন দিয়ে যায়, যা এই মন্দির থেকে 139কিমি দূর।
দর্শনীয় স্থান :- 1) শ্রীশৈলম্ অভয়ারণ্য, 2) শ্রীশৈলম্ ড্যাম, 3) নাগার্জুনসাগর শ্রীশৈলম্ ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প, ইত্যাদি।
6. ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
ভেরুল, ঔরঙ্গাবাদ জেলা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ভারত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার নিরিখে এই জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি ষষ্ঠস্থানে রয়েছে।
প্রাচীন শিব পুরাণে এই জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরকে শিবের আবাসক্ষেত্র হিসাবে উল্লিখিত হয়েছে।
ঘৃষ্ণেশ্বর বা ঘুষ্মেশ্বর কথার অর্থ হল, "সান্ত্বনার প্রভূ"।
কথিত আছে, শিব ও পার্বতীর মধ্যে বিবাদ হলে শিব এখানে এসে বাস করেন।
এটি মহাদেবের আবির্ভাবের দিক থেকে শেষ তথা 12 তম জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির।
শ্রীশৈলম্ তীর্থক্ষেত্রটি ইলোরা গুহা, যা UNESCO কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যমণ্ডিত স্থান হিসাবে ঘোষিত, তা থেকে মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত।
শ্রীশৈলম্ একমাত্র মন্দির যেখানে শিবলিঙ্গটি পূর্বমুখে অবস্থান করছে।
মন্দিরের গঠন শৈলী ও স্থাপত্যশিল্প
শ্রীশৈলম্ মন্দিরটি লাল পাথরে তৈরী ও 240ফুট ×185 ফুট মাপবিশিষ্ট যা অন্যান্য জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরের মধ্যে সবথেকে ক্ষুদ্র আকৃতির।
দক্ষিন ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে মন্দিরটি গঠিত।
মন্দির অভ্যন্তরে প্রভূ শিব ও প্রভূ বিষ্ণুর খোদিত প্রতিমূর্তি ও দরবার কক্ষে শিবের বাহন নন্দীকেশ্বর ষণ্ডের মূর্তির স্থাপত্য খুবই আকর্ষনীয়।
দরবার কক্ষ 24টি মনোরম খোদিত মূর্তি দ্বারা সজ্জিত স্তম্ভের উপরে দণ্ডায়মান।
স্তম্ভগুলি মহাদেবের সম্পর্কে পুরাণ কথিত কাহিনীর সাথে মিলিয়ে প্রতিমূর্তি ও বিষ্ণুর দশাবতার মুর্তিসহ লাল পাথরের গাত্রে খোদিত আছে।
মন্দির প্রাঙ্গন, বিভিন্ন দেবদেবীর স্থাপত্য মুর্তি ও খোদিত প্রতিমুর্তি দ্বারা শোভিত রয়েছে।
লাল পাথরের তৈরী মন্দিরের গর্ভগৃহ 17ফুট × 17ফুট বর্গাকৃতি বিশিষ্ট।
শ্রীশৈলম্ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি ত্রয়োদশ শতকের পূর্বে নির্মিত হলেও দিল্লীর সুলতানী আমলে তা বারম্বার ধ্বংস ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বর্তমান অবস্থায় রয়েছে।
ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের পিতামহ মালোজী ভোঁসলে কর্তৃক অষ্টাদশ শতকে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়।
মন্দিরের নিকটবর্তী শিবালয় সরোবরটি পবিত্র জলাধার বলে ভক্তজন মনে করেন।
* দেবতা : ঘৃষ্ণেশ্বর মহাদেব,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা : 568মিটার/1864ফুট, ষষ্ঠ স্থান,
* খোলা ও বন্ধের সময়সূচী : সকাল 5:30মি থেকে রাত্রি 10টা,(পরিবর্তন সাপেক্ষ)
* প্রবেশ মূল্য নাই তবে কিছু মূল্যের বিনিময়ে দর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা আছে,
* সময় : অক্টোবর - ফেব্রুয়ারী,
* প্রধান উৎসব : মহাশিবরাত্রি,
কিভাবে যাবেন :-
নিকটবর্তী বিমান বন্দর : ঔরঙ্গাবাদ, মন্দির মাত্র 41কিমি,
রেলপথ : ঔরঙ্গাবাদ রেল স্টেশন (34কিমি),
সড়কপথ : মহারাষ্ট্র রাজ্য সড়ক পরিবহন সংস্থার বাসে, যা ঔরঙ্গাবাদ- ইলোরাগামী অথবা প্রাইভেট ট্যাক্সিতেও যাওয়া যাবে।
দর্শনীয় স্থানসমূহ :-
ইলোরা গুহা(1কিমি), ইলোরা দিগম্বর জৈন মন্দির(600মি), মালিক অম্বরের কবরস্থান(6কিমি), ঔরঙ্গজেবের কবরস্থান(6কিমি), মুঘল সিল্ক বাজার(7কিমি), দৌলতাবাদ ফোর্ট(15কিমি), কৃষ্ণানদীর উপর শ্রীশৈলম্ ড্যাম, ইত্যাদি।
7. মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
উজ্জয়িনী, মধ্যপ্রদেশ, ভারত।
ভারতবর্ষের মধ্যে অবস্থিত একমাত্র দক্ষিণমুখী জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির এই মহাকালেশ্বর মন্দির।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতার বিচারে মহাকালেশ্বর মন্দিরটি সপ্তম স্থানে রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের "ধর্মীয় রাজধানী" হিসাবে আখ্যায়িত জৈন সিটি উজ্জ্বয়িনীতে এই মহাকালেশ্বর মন্দির প্রতিষ্ঠিত।
মন্দিরটি শিপ্রা নদীর নিকটে, রুদ্রসাগর হ্রদের তীরে অবস্থিত।
মন্দিরে বিরাজমান লিঙ্গম্ রূপী প্রধান দেবতা মহাদেব স্বয়ম্ভু বলে বিশ্বাস, যা তার নিজের অন্তর্নিহিত শক্তিতে উদ্ভূত।
অন্য মুর্তি ও লিঙ্গমগুলি আধ্যাত্মিক রীতিতে প্রতিষ্ঠিত ও তাঁদের মন্ত্রশক্তি দ্বারা জাগ্রত করা হয়েছে।
ভক্তগণ এখানে প্রভূ শিবের পূজা করে তাঁর কাছে বয়স বৃদ্ধি জনিত কারণে জরা, বার্দ্ধক্য প্রভৃতি থেকে মুক্তিলাভের জন্য প্রার্থনা করেন।
* মন্দিরের জ্যোতির্লিঙ্গ ও অন্যান্য দেবদেবীগণের মূর্তি:
মহাকালেশ্বরের মুর্তি দক্ষিণমুখী যা অন্য জ্যোতির্লিঙ্গের থেকে এক বিরল ব্যতিক্রম হিসাবে গণ্য করা হয়।
'তান্ত্রিক শিবনেত্র' প্রথা অনুসারে মহাকালেশ্বর মহাদেবের এই অপূর্ব মূর্তি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।
এই মন্দিরে ওঙ্কারেশ্বর মহাদেবও পূজিত হন।
মন্দিরের মূল গর্ভগৃহের অভ্যন্তরের পশ্চিমপ্রান্তে প্রভূ গণেশ, উত্তরপ্রান্তে দেবী পার্বতী, পূর্বপ্রান্তে দেবসেনাপতি কার্তিকেয় এবং দক্ষিণপ্রান্তে প্রভূ মহাদেবের বাহন নন্দীকেশ্বরের অবস্থান।
তৃতীয়তলে অবস্থিত প্রভূ নাগচন্দ্রেশ্বরের মূর্তি জনসাধারণের দর্শনের জন্য একমাত্র নাগপঞ্চমীর দিন খুলে দেওয়া হয়।
* মন্দির ও তার স্থাপত্যসুষমা
মহাকালেশ্বর মন্দিরটি পঞ্চম স্তরীয় যার মধ্যে নীচের তলাটি মাটির অভ্যন্তরভাগে অবস্থিত।
অভ্যন্তরভাগের গর্ভগৃহে প্রবেশের পথটি সুদৃশ্য পিতলের প্রদীপের আলোক দ্বারা সুশোভিত।
রুদ্রসাগর হ্রদের তীরে সুউচ্চ প্রাচীর বেষ্টিত বিশাল প্রাঙ্গনযুক্ত মন্দিরের সর্বোচ্চ চূড়া এক অপূর্ব স্থাপত্যশিল্পের দ্বারা শোভামণ্ডিত ও খুবই আকর্ষণীয়।
প্রধান উৎসব মহাশিবরাত্রির পূণ্যতিথিতে মহাকালেশ্বরের পাল্কী যাত্রার সময় এক বিশাল শোভাযাত্রা যা শাহী সাফারী নামে খ্যাত, উজ্জয়িনী নগরীতে মহাসমারোহে উদযাপিত হয়ে থাকে।
* ধ্বংস ও পুনর্গঠন
1234-35 সালে সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিস উজ্জয়িনী লুণ্ঠনকালে মহাকালেশ্বর মন্দিরও লুণ্ঠন ও ধ্বংস করেন।
1706 সালে হিন্দু পাদ পাদশাহীর ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ ও পেশোয়া বাজীরাও সিন্ধে মহারাজ বর্তমান মন্দিরটি নির্মান করেন।
পরবর্তীকালে, মহাদাজী সিন্ধে (প্রথম মাধবরাও সিন্ধে) 1730 থেকে 1794 সাল এবং মহারানী বায়জাবাঈ রাজে সিন্ধে 1827 থেকে 1863, এই মন্দিরের সংস্কার ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন।
ভরতের স্বাধীনতার পর দেবস্থান ট্রাস্টের পরিবর্তে উজ্জয়িনী পৌরসংস্থা ও বর্তমানে মন্দিরটি কালেক্টরেটের অধীনে রয়েছে।
* প্রধান দেবতা : মহাকালেশ্বর মহাদেব,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা : 494মিটার/1621ফুট, স্থান : সপ্তম,
* প্রধান উৎসব : মহাশিবরাত্রি,
* প্রবেশ মূল্য নাই, কিন্তু কিছু মূল্যের বিনিময়ে বিশেষ দর্শনের ব্যবস্থা আছে।
* মূল্যবান দ্রব্য, ব্যাগ, মোবাইল ফোন, ক্যামেরা নিষিদ্ধ, লকার ব্যবস্থা রয়েছে,
* হুইলচেয়ার পাওয়া যাবে।
* ভোর 4:00টায় মহাসমারোহে অতি আকর্ষণীয় ভস্ম আরতি দেখার জন্য মন্দিরের মধ্যে বা নিকটবর্তী হোটেলে রাত্রিবাস করা প্রয়োজন।
* কিভাবে যাবেন :-
বিমানপথ, রেলপথ ও সড়কপথে এই মন্দিরে আসা যায়।
8. বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
বৈদ্যনাথধাম, ঝাড়খণ্ড, ভারত।
সুমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ক্ষেত্রে বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির অষ্টমস্থানে অবস্থান করছে।
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরের মধ্যে বৈদ্যনাথধাম যা বাবা বৈদ্যনাথধাম নামেও খ্যাত এক পবিত্র প্রভূ মহাদেবের বাসভূমি।
এখানে বাবা বৈদ্যনাথের জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির ছাড়াও আরও একুশটি বিগ্রহ মন্দির রয়েছে।
প্রভূ বিষ্ণু ও ব্রহ্মার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিবাদের অবসানকল্পে মহাদেব অরিদ্রা নক্ষত্রের রাত্রে অনাদি-অনন্ত এক জ্যোতির্লিঙ্গরূপ ধারণ করেন ও তার আদি-অন্ত খুঁজে দেখার জন্য বলেন।
এই জ্যোতির্লিঙ্গ রূপ ভারতবর্ষের দ্বাদশ স্থানে প্রকটিত হয় ও বৈদ্যনাথধাম তার মধ্যে অন্যতম।
হিন্দু পুরাণমতে ভক্তদের বিশ্বাস যে, রাক্ষসরাজ রাবণ এখানে মহাদেবের তপস্যা করেন, যাতে তিনি শিবের আশীর্বাদে অর্জিত ক্ষমতাবলে পৃথিবীতে একাধিপত্য করতে পারেন।
রাবণ তাঁর দশটি মুণ্ড একে একে ছেদন করে মহাদেবকে উৎসর্গ করেন ও শিব সন্তুষ্ট হয়ে বৈদ্যরূপে অবতীর্ণ হয়ে তার আঘাতের চিকিৎসা করেন এবং এইস্থানের নাম হয় বৈদ্যনাথধাম।
তিনটি স্থান এই বৈদ্যনাথধাম তাদের এলাকারটি প্রধান বলে দাবী করে।
1) বৈদ্যনাথ মন্দির, দেওঘর,ঝাড়খণ্ড
2) বৈদ্যনাথ মন্দির, পারলি, মহারাষ্ট্র
3) বৈদ্যনাথ মন্দির, বৈজনাথ, হিমাচল প্রদেশ।
বৈদ্যনাথধামে দেবী সতীর হৃদয় পতিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস এবং একটি শক্তিপীঠ হিসাবেও গণ্য হয়।
এই পীঠে দেবী জয়দুর্গা নামে ও রক্ষক অভিভাবক প্রভূ বৈদ্যনাথ নামে নিত্য পূজিত হন এবং দুটি মন্দিরের চূড়া অসংখ্য লাল সুতা দ্বারা গ্রণ্থিবদ্ধ রয়েছে, যা শিব ও শক্তির একত্ব প্রমান করে।
* প্রধান দেবতা : বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা : 254মিটার/833ফূট,
* স্থাপন কারী : রাজা পুরণমল,
* খোলা ও বন্ধ : সকাল 4:00টা - বিকাল 3:00টা এবং সন্ধ্যা 6:00টা - রাত্রি 9:00টা,
* প্রধান উৎসব : মহাশিবরাত্রি ও শ্রাবণী মেলা ও যাত্রা। সম্পূর্ণ শ্রাবণ মাস জুড়ে 108 কিমি দূরে বিহারের সুলতানগঞ্জের গঙ্গার জল কাঁধে বাঁক নিয়ে লক্ষ লক্ষ ভক্তরা সারা পথ হেঁটে আসে এবং বাবা শিবের মস্তকে জলাভিষেক করে।
বিমানপথ : রাঁচী বিমান বন্দর
রেলপথ : জশিডি জংশন রেলস্টেশন (6কিমি),
সড়কপথ : জশিডি বাস স্ট্যাণ্ড থেকে মাত্র 3কিমি।
দর্শনীয় স্থান : নন্দন পাহাড়, তপোবন গুহা ও পর্বত, নওলখা মন্দির, বাসুকীনাথ মন্দির, ত্রিকূট পর্বত ও ময়ূরাক্ষীনদীর উৎসস্থল, সৎসঙ্গ আশ্রম, ইত্যাদি।
9.ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
মার্কণ্ডেয় আশ্রম রোড, ওঙ্কারেশ্বর, মধ্যপ্রদেশ, ভারত।
সমুদ্র থেকে উচ্চতার মাপকাঠিতে এই মন্দিরের স্থান নবম।
মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার পবিত্র নর্মদা ও কাবেরী(নর্মদার একটি উপনদী)নদীর দক্ষিণ তীরে মান্ধাতা বা শিবপুরী দ্বীপে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত।
দ্বীপটির আকৃতি দেবনাগরী ওঁ চিহ্নের মত বলে বিশ্বাস, যা বিমান থেকেও বোঝা যায়।
এখানে মহাদেবের দুটি মন্দির রয়েছে, একটি ওঙ্কারেশ্বর অর্থাৎ ওঁ শব্দের অর্থ প্রভূ ও অপরটি মামলেশ্বর অর্থাৎ দেবতাগণের প্রভূ, যা পবিত্র নর্মদা নদীর দক্ষিণ তীরে মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত।
* পুরাণ কথা
শূর বিন্ধ্য, যিনি সমগ্র বিন্ধ্যাচল এলাকার নিয়ন্ত্রক, একবার তাঁর কৃত সমস্ত পাপ থেকে মুক্তিলাভ কামনায় প্রভূ মহাদেবের তপস্যা করেন।
তিনি একটি ওঁ আকৃতির জ্যামিতিক চিত্র তৈরী করে তার উপর বালি ও মাটি দিয়ে মহাদেবের একটি লিঙ্গরূপ বানিয়ে তপস্যা করেন।
মহাদেব সন্তুষ্ট হয়ে, তাঁর সম্মুখে দুটি ভিন্নরূপে আবির্ভূত হন, তার একটি ওঁকারেশ্বর ও অপরটি অমলেশ্বর।
তাঁর রচিত ওম্ থেকে স্থানটির নাম হয় ওঙ্কারেশ্বর এবং এখানে একটি মন্দিরে শিবের জ্যোতির্লিঙ্গসহ দেবী পার্বতী ও পঞ্চবদন বিশিষ্ট্য গণপতির মূর্তি পূজিত হয়।
অপর একটি কাহিনীতে এখানে রামের পূর্বপুরুষ ইক্ষাকু বংশের রাজা মান্ধাতার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেব জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হন।
আর একটি মতে এখানে দেবাসুরের মধ্যে বিরাট যুদ্ধ হয়, তাই দেবগণ পরাজিত হয়ে শিবের সাহায্য চান ও মহাদেব ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে দানবদের পরাস্ত করেন।
* ওঙ্কার শব্দের দার্শনিক ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মঠের ব্যাখ্যা অনুসারে 'ওঙ্কার' হল দুটি শব্দ, ওঁ অর্থে স্বর ও আকার অর্থে সৃষ্টিকে বোঝায়, যেমন 'অদ্বৈত' অর্থ দুই নয় তেমনই 'ওঁঙ্কার'একটি একক, যা সৃষ্টিরূপে বীজমন্ত্র হিসাবে বিরাজিত রয়েছে।
* দ্বীপ ও তার অবস্থান
মধ্য প্রদেশের মারটাক্কা থেকে 12কিমি দূরে মান্ধাতা নগরী যা ওঙ্কারেশ্বর নামে পরিচিত,সেখানে এই মন্দির প্রতিষ্ঠিত।
দ্বীপটি 4কিমি দীর্ঘ ও 2.6বর্গকিমি (2,600,000বর্গমিটার) স্থানবিশিষ্ট্য এবং নৌকা ও সেতু দ্বারা সংযুক্ত রয়েছে।
মন্দিরটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম সর্বাধিক দর্শনার্থীগণের দ্বারা পূজিত।
দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবে পবিত্র 'ওম্', এই হিন্দু ধর্মীয় বীজমন্ত্রের আকৃতি বিশিষ্ট্য।
দ্বীপটি নর্মদা নদীর উপর 270ফুট আকৃতির একটি ঝুলন্ত সেতু দ্বারা যুক্ত, যা ওঙ্কারেশ্বর মন্দিরের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
ময়ূরী আকৃতির ত্রিস্তর বিশিষ্ট্য গৌরী-সোমনাথ মন্দির এখানে অবস্থিত।
* স্থাপত্য ও অন্যান্য বিষয়
* স্থাপনকারী : মারাঠা সাম্রাজ্যের সেনাপতি চিমাজী আপ্পা ও পেশোয়া বাজীরাও।
* সাল : 1740 থেকে 1760 সালের মধ্যে মন্দিরটি তৈরী হয়।
* মন্দিরের শ্বেত পাথরের ছাদের চূড়াটি সোপস্টোন (soapstone or steatite) পাথরের তৈরী এবং এখানকার মূল আকর্ষণ।
* মন্দিরটি তিনটি দর্শনীয় স্তরে বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমূর্তি বিশিষ্ট্য প্রাচীন নাগারা স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত।
* মন্দিরের স্থাপত্যরীতি সপ্তদশ শতাব্দীর গৌরবময় অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
* প্রধান দেবতা : ওঙ্কারেশ্বর মহাদেব,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা : 193মিটার/633ফুট,
* খোলা ও বন্ধের সময় : সকাল 5:00টা থেকে রাত্রি 9:30টা (এক বছর আগের সময়)।
* দর্শনীয় স্থান :-
মহাকালেশ্বর মন্দির, আশাপূরী মন্দির, কেদাপতি হনুমান মন্দির, মামলেশ্বর মন্দির, কেদারনাথ মন্দির, গোবিন্দেশ্বর গুহা(এখানেই আদি শঙ্করাচার্য তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেন), গুরু গোবিন্দ এই মন্দির দর্শনকালে যেখানে অবস্থান করেছিলেন, সেই গুরদোয়ারা ওঙ্কারেশ্বর সাহিব, নর্মদা যেস্থলে কাবেরী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে সেই সঙ্গমস্থল ইত্যাদি।
* কিভাবে যাবেন :-
বিমানপথ : দেবী অহিল্যাবাঈ হোলকার বিমানবন্দর, ইন্দোর, মন্দির থেকে 77কিমি দূর।
রেলপথ : বিভিন্ন শহরের সঙ্গে যুক্ত ওঙ্কারেশ্বর রোড স্টেশনটি আকোলা- রাতলাম লাইনের অন্তর্গত।
সড়কপথ : মন্দিরটির সাথে উত্তম সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।
10. কাশী বিশ্বনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির,
বিশ্বনাথ গলি, বারানসী, জেলা : বারানসী, উত্তরপ্রদেশ, ভারত।
মন্দিরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে দশম স্থানে রয়েছে।
প্রভূ বিশ্বেশ্বর, বিশ্বের যিনি ঈশ্বর দেবাদিদেব মহাদেব, তাঁর গৃহীত জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে প্রাচীন কাশী নগরীতে আবির্ভূত হন।
প্রাচীন স্কন্দ পুরাণের 'শিব খণ্ড' অংশে এই কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে।
কথিত আছে, মহাদেব, ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিবাদের মীমাংসার জন্য তাঁর অনাদি-অনন্ত রূপের এক জ্যোতির্লিঙ্গ ত্রিলোক জুড়ে প্রকাশ করেছিলেন ও সেটি দ্বাদশ স্থানে প্রকটিত হয়েছিল।
* ধ্বংস ও পুনর্গঠন
মন্দিরটি দ্বাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত মুসলিম আক্রমনকারী লুঠেরা ও শাসনকর্তাদের দ্বারা ধ্বংস ও লুণ্ঠিত হয়েছে।
1194খৃঃ কুতুবুদ্দিন আইবেকের সেনাপতি মহম্মদ ঘুরী কনৌজের রাজাকে পরাস্ত করে, মন্দির লুণ্ঠন ও ধ্বংস করেন, যা ইলতুৎমিসের রাজত্বকালে গুজারাটের এক ধনী ব্যবসায়ীর বদান্যতায় পুননির্মিত হয়।
এইভাবে বিভিন্ন লুণ্ঠন,ধ্বংস ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে, অবশেষে, 1669খৃঃ মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব মূল মন্দির ধ্বংস করে, সেখানে জ্ঞান বাপি মসজিদ তৈরী করেন।
মন্দির পুনর্নিমান করার জন্য অনেক হিন্দু মহারাজা ও ধনী ব্যবসায়ীর প্রচেষ্টা বিফল হওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসেছে।
1780 খৃঃ মহারাজা মালহার রাও হোলকারের পুত্রবধূ রানী অহিল্যাবাঈ হোলকার বর্তমান মন্দিরটি নির্মান করেন।
1835খৃঃ পাঞ্জাব কেশরী মহারাজা রঞ্জিত সিং মন্দিরের গম্বুজ সোনা দিয়ে মুড়ে দেবার জন্য 1(এক) টন সোনা দান করেন, নাগপুরের রঘুজী ভোঁসলে-111 প্রচুর পরিমান রুপা দান করেন এবং 1860খৃঃ নেপাল রাজ্যের রানা একটি 7ফুট উচ্চ নন্দীকেশ্বর ষণ্ডের মূর্তি দেন, যা মন্দিরের পূর্বদিকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
* জ্ঞান বাপি
মন্দিরের অভ্যন্তরে জ্ঞান বাপি একটি বিশেষ কূপ যার অর্থ জ্ঞান ভাণ্ডার এবং কথিত আছে, জ্যোতির্লিঙ্গটিকে শীতল করার লক্ষ্যে মহাদেব স্বয়ং ঐ কূপ খনন করেন।
* প্রধান দেবতা : বিশ্বেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ,
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা : 77মিটার/ 252.625ফুট,
* প্রধান উৎসব : মহাশিবরাত্রি
* খোলা ও বন্ধের সময় : 24ঘণ্টা খোলা থাকে,
* মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ইত্যাদি নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। বাহিরে দোকানে লকার পাওয়া যাবে।
* বিভিন্ন আরতি ও বিশেষ পূজা দর্শনের জন্য মূল্য ধার্য্য করা আছে।
কিভাবে যাবেন :-
1) বিমানপথ:- লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বিমান বন্দর, বাবতপুর। দূরত্ব : 20-25কিমি,
2) রেলপথ :- এখানে বারানসী জংশন স্টেশন : দূরত্ব 6কিমি ও বারানসী সিটি স্টেশন : 2কিমি।
3) সড়কপথ : বারানসীর সঙ্গে সারা ভারতের সড়ক পথে যোগাযোগ খুবই উন্নতমানের।
দর্শনীয় স্থান :- বিশ্বনাথ মন্দির, নব বিশ্বনাথ মন্দির, দুর্গা মন্দির, ভারতমাতা মন্দির, আলমগীর মস্ক, জ্ঞান বাপি, বিভিন্ন ঘাট সমূহ, বারানসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, চূনার ফোর্ট ইত্যাদি।
11. রামেশ্বরম্ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
সাম্বাই ভিলেজ, মঙ্গাডু, ওল্লিকাডু লেক রোড, রামেশ্বরম্, তামিল নাডু -623526
(Sambai village - Mangadu - Ollikadu Lake Road, Rameshwaram, Tamil Nadu - 623526)
সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতার ভিত্তিতে রামেশ্বরম্ মন্দিরটি একাদশস্থানে রয়েছে।
রামেশ্বরমে মহাদেব তাঁর জ্যোতির্লিঙ্গ রূপ ধারণ করে প্রকটিত হয়েছিলেন এবং এটি চতুর্ধামের মধ্যে অন্যতম একটি পূণ্যধাম হিসাবেও বিবেচিত হয়।
শ্রীরামচন্দ্র সীতাদেবীকে উদ্ধারের নিমিত্ত এখানে এসে বালি দিয়ে একটি শিবলিঙ্গ তৈরী করে মহাদেবের বর প্রার্থনা করেন, প্রত্যাবর্তনের সময়ও নিজ (মতান্তরে সীতাদেবী) নির্মিত ও কাশী (মতান্তরে কৈলাশ) থেকে হনুমানজীর আনীত দুটি শিবলিঙ্গেরই পূজা করেন।
সেজন্য বৈষ্ণব ও শৈব উভয় ভক্তদেরই তীর্থ ক্ষেত্র হিসাবে সেতুবন্ধ রামেশ্বরম্ পরিগণিত হয়।
অবশেষে, শ্রীরামচন্দ্র আদেশ দেন যে, কাশী থেকে আনীত শিবলিঙ্গের পূজা প্রথমে হবে, যে নিয়ম আজও চলে আসছে।
শিবলিঙ্গ দুটির একটি রামনাথস্বামী শিবলিঙ্গম্ ও অপরটি বিশ্বলিঙ্গম্ বা বিশ্বনাথ নামে পূজিত হয়।
* মন্দিরের গঠনশৈলী ও স্থাপত্যশিল্প
প্রাচীন দক্ষিণ ভারতীয় মন্দিরসমূহের রীতি অনুসারে এখানেও চতুর্দিকে সুউচ্চ প্রাচীরবেষ্টিত মন্দির চত্বর যার পূর্ব ও পশ্চিমে বিশাল গোপুরম্ এবং উত্তর ও দক্ষিণে স্তম্ভ সজ্জিত দরজা রয়েছে।
মন্দিরটি দ্বাদশ শতকে পাণ্ড্য বংশের রাজাদের দ্বারা এবং মন্দিরের গর্ভগৃহটি জাফনা রাজ্যের Jeyaveera Cinkaiarian ও তাঁর উত্তরসূরী Gunaveera Cinkaiarian কর্তৃক পুনরায় সংস্কার ও শোভা বর্ধন করা হয়েছে।
মন্দিরের বাইরের বারান্দাশ্রেণী, যা দীর্ঘতম হিসাবে পৃথিবী বিখ্যাত তার পরিমাপ হল, 22.6378ফুট উচ্চ, পূর্ব ও পশ্চিম প্রতি দিকে 400ফুট এবং উত্তর ও দক্ষিণ প্রতি দিকে 600ফুট।
মন্দিরের ভিতরের বারান্দাশ্রেণী পূর্ব ও পশ্চিম, প্রতি দিকে 224ফুট, উত্তর ও দক্ষিণ, প্রতি দিকে 352ফুট।
এই বারান্দাশ্রেণীর মোট দৈর্ঘ্য 3850ফুট।
এখানে বহির্বারান্দায় 1212টি স্তম্ভশ্রেণী রয়েছে, মেঝে থেকে ছাদ অবধি যার উচ্চতার গড় 30ফুট।
প্রধান 'রাজাগোপুরম্' 53মিটার লম্বা।
অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে মুথুরামলিঙ্গ সেতুপথি বিশ্ববিখ্যাত তৃতীয় বারান্দা, "চোক্কাটন মণ্ডপম্"টি তৈরী করেন যা দেখতে চেস বোর্ডের ন্যায়।
* প্রধান দেবতা: রামনাথস্বামী (শিব) ও পর্বত বর্ধিনী (পার্বতী),
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা : 10মিটার (33ফুট),
* প্রধান উৎসব : বসন্তোৎসব(spring festival) এবং ষষ্ঠ দিনে 'আদি'(adi) জুলাই-আগস্ট ও 'মাসি' ফেব্রুয়ারী-মার্চ রামনাডের সেতুপতি দ্বারা পরিচালিত হয়।
* খোলা ও বন্ধের সময় :
* মন্দির নির্মান : পাণ্ড্য রাজাগণ ও জাফনার রাজাগণ,
* স্থাপত্যরীতি : তামিল
* দ্বীপটির গঠন : দ্বীপটি 61.8বর্গ কিমি (23.9 বর্গমাইল) জুড়ে বিস্তৃত যা শঙ্খ আকৃতি বিশিষ্ট্য এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা, 10মিটার(32.808ফুট)
কিভাবে যাবেন :- বিমানপথ : নিকটবর্তী বিমান বন্দর, রামেশ্বরম্ থেকে 175কিমি দূর। এছাড়া 195কিমি দূর থুথুকুডি বিমানবন্দর রয়েছে।
রেলপথ : মন্দির থেকে 1.3কিমি দূরে রয়েছে রামেশ্বরম্ রেলস্টেশন।
সড়কপথ : সারা ভারতের সাথে সড়কপথে রামেশ্বরম্ সংযুক্ত ও বাস স্ট্যাণ্ড থেকে মন্দির মাত্র 2কিমি।
দর্শনীয় স্থানসমূহ :- ধনুষ্কোডি সৈকত, অরুলমিগু রামনাথস্বামী মন্দির, পাম্বান সেতু যা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উপমহাদেশের শেষ বিন্দুতে অবস্থিত পাম্বান দ্বীপের সংযোগকারী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের বাসগৃহ, আদমের সেতু,ইত্যাদি।
12. নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির
দ্বারকা ( দ্বারকা পূরীর সন্নিকটে), জেলা : দেবভূমি দ্বারকা, জামনগর, সৌরাষ্ট্র, গুজারাট, ভারত।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতার ভিত্তিতে নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দিরটি ভারতবর্ষের মধ্যে দ্বাদশতম।
নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গটি গুজারাটের দ্বারুকাবন নামে এক দেবদারু অরণ্যে অবস্থিত।
শিব পুরাণ অনুসারে, যে দারুকাবন, প্রাচীনকালে তা 'কাম্যকবন' তথা 'দ্বৈতবন' বা 'দণ্ডকবন' নামে উল্লিখিত হয়েছে।
মহাদেব এখানে নাগেশ্বর অর্থাৎ সর্পদের ঈশ্বর নামে দশম জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন ও দেবী পার্বতী 'নাগেশ্বরী' নামে অভিহিত হন।
এছাড়া, আরও দুটি স্থান এই নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের অবস্থানের দাবীদার এবং তা হল, এক, উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ার কাছে জাগেশ্বর ও মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলী জেলার অন্ধ নাগনাথে অবস্থিত।
নাগেশ্বর মন্দিরের স্থাপত্যরীতি
প্রাচীন বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে এক অপূর্ব সুষমামণ্ডিত গোঁড়া হিন্দুধর্মীয় মন্দির নির্মান পদ্ধতিতে নাগেশ্বর মন্দির নির্মিত হয়েছে।
মানব শরীরের 'শায়িত' পরিস্থিতি অনুসারে মন্দিরটির সমগ্র পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মন্দিরের 'মহাদ্বার' তথা প্রবেশপথ, বারান্দা, প্রার্থনাগৃহ যা 'সভা মণ্ডপ', 'অন্তরাল' যা নন্দীর স্থান, এবং মূল গর্ভগৃহ, এইভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রদ্বারা পরিকল্পিত।
মন্দিরটি মানব শরীরের অঙ্গ সমূহের প্রতীক যেমন, মহাদ্বারটি পদযুগল, বারান্দাটি দুটি বিশেষ দেবতার যথা, হনুমান ও গণেশের মূর্তি, যেন দুটি হাত এবং গর্ভগৃহে শিবের জ্যোতির্লিঙ্গ মূর্তি, যেন শিরোদেশ।
অন্তরালটি বাহন নন্দীকেশের পূজার স্থল হিসাবে গণ্য হয়।
মন্দিরটি 110ফুট উচ্চ ও বিভিন্ন খিলান, গোলাকৃতি বংশীর ন্যায় স্তম্ভ সমূহ বিশেষ মার্বেল প্রস্তর দ্বারা এমনভাবে নির্মিত যেমন একটি স্বস্তিকা চিহ্নের উপর একটি কলস প্রতিষ্ঠিত, যা প্রচলিত হিন্দু শাস্ত্রবিধি অনুসারে একটি পূজার স্থল হিসাবে গণ্য হয়।
প্রথম স্তরে মন্দিরের গর্ভগৃহটি ভূতল থেকে 6ইঞ্চি নিম্ন, দ্বিতীয় স্তরে 'রঙ্গমণ্ডপম্' ভূতল থেকে 2ইঞ্চি উপরে এবং 'অন্তরাল'টি এমনভাবে তৈরী যেন গর্ভগৃহে শিবলিঙ্গকে পাহারা দিচ্ছে ও সেটি যেন ঈশ্বর ও ভক্তের মাঝে অবস্থান্তরে গমনের বিশ্রামস্থল।
স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুসারে মন্দিরটি ক্রমাগত ঢালু হয়ে নাগেশ্বর হ্রদ বরাবর একটি সুরক্ষা প্রাচীর অবধি নেমে গিয়েছে।
* দেবতা : নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ
* সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা : 8মিটার(26.246ফুট),12শ স্থান,
* খোলা ও বন্ধের সময় : সকাল 6.00am - 12-30pm এবং 5.00pm - 9-30pm,
এখানকার সন্ধ্যা আরতি ভক্তকে এক অন্য জগতে নিয়ে যায়।
* মন্দির অভ্যন্তরে ক্যামেরা মোবাইল নিষেধ।
কিভাবে যাবেন :- বিমানপথ: দুটি বিমানবন্দর, পোরবন্দর 107কিমি ও জামনগর 126কিমি, সড়কপথে দূরত্ব,
রেলপথ : দ্বারুকা রেল স্টেশন, দূরত্ব 16কিমি,
সড়কপথ : সরাসরি NH 947 ধরে গিয়ে, সেখান থেকে 16কিমি নাগেশ্বরমন্দির।
দর্শনীয় স্থান :-
গোপী লেক, শ্রীদ্বারকাধীশ মন্দির, মেরিন ন্যাশনাল পার্ক, রুক্মিণী দেবী মন্দির, দ্বারকা বীচ প্রভৃতি।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে ভারতের জ্যোতির্লিঙ্গম মন্দিরসমূহের তালিকা, এক নজরে।
1: কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 3553মিটার/11755ফুট,
2 : ভীমশঙ্কর জ্যোতিরলিঙ্গ মন্দির : 990.6মিটার/3250ফুট,
3 : সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 975.36মিটার /3200ফুট,
4 : ত্র্যম্বকেশ্বর ঝ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 914.4মিটার / 3000ফুট,
5 : মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 862.584মিটার /2830ফুট,
6 : ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 578মিটার/1864ফুট,
7 : মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 494মিটার/1621ফুট,
8 : বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 254মিটার/833ফুট,
9 : ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 193মিটার/633ফুট,
10 : কাশী বিশ্বনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 77মিটার/252.625ফুট,
11 : রামেশ্বরম্ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 10মিটার/32.808ফুট,
12 : নাগেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির : 8মিটার/26.846ফুট।
সুধী পাঠকবৃন্দ! আশা করি কিছু তথ্য আমরা এই লেখার মাধ্যমে আপনাদের জানাতে পেরেছি। লেখাটি ভালো লাগলে কমেন্ট ও শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।