Vijaya Vittala Temple,
Nimbapura, Hampi, Karnataka,
PIN:- 583239, Bharat.
বিজয় ভিত্তলা মন্দির, নিম্বাপুরা, হাম্পী,
কর্ণাটক, পিন 583239,
ভারত।
সুপ্রাচীন কাল থেকে বৃহত্তর ভারতবর্ষে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসাবে মন্দিরসমূহের নির্মাণে যে এলাকাভিত্তিক স্থাপত্যশিল্প, ভাস্কর্য, চিত্রকলা ও প্রযুক্তিবিদ্যার প্রয়োগনৈপুণ্য দেখা যায় তা এককথায় অনবদ্য ও অনির্বচনীয়।
বর্তমান ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে যে সকল উল্লেখযোগ্য মন্দিরের বিশেষ স্থান রয়েছে, সে সম্পর্কে আলোচনা করা যেতে পারে, তার মধ্যে কর্ণাটক রাজ্যের বহু সংখ্যক মন্দির ও গুহামন্দিরের মধ্যে আমাদের আজকের আলোচ্য হাম্পী শহরের ভিত্তলা মন্দিরটিও অন্যতম।
* হাম্পীর বিজয় ভিত্তলা মন্দির ও মহারাজ দ্বিতীয় কৃষ্ণ দেবরায়।
হাম্পীর ভিত্তলা মন্দিরটি যা বিজয় ভিত্তলা মন্দির নামেও পরিচিত, সেটি হাম্পী শহরের উত্তর অংশে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত ও এখানে অনেকগুলি মন্দির, মণ্ডপ, চত্বর, রয়েছে এবং সেটিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শহরটিকে ভিত্তলাপুরও বলা হয়।
হাম্পীর এই বিজয় ভিত্তলা মন্দিরটি যে শুধুমাত্র ধর্মীয় দিক থেকে তো অবশ্যই, তা ছাড়াও, তার অতুলনীয় দ্রাবিড়ীয় স্থাপত্য, প্রাযুক্তিক কৃৎকৌশল ও এই এলাকার বিস্তৃত প্রাচীন ধ্বসস্তূপের মধ্যে আজও তার গরিমামণ্ডিত অবস্থানসহ বিরাজমান রয়েছে।
বিজয়নগরের মহাপরাক্রমশালী রাজা দ্বিতীয় দেবরায়(1422-1446) নির্মিত ভিত্তলা মন্দিরটি তৎকালীন স্থাপত্য শিল্পীদের উৎকর্ষতার চরম সীমা অতিক্রম করে যাওয়া এক আশ্চর্য সৃষ্টি।
মহারাজ দ্বিতীয় দেব রায়ের পরবর্তী রাজাগণের বদান্যতার বহু উদাহরণ ভিত্তলা মন্দিরের বিভিন্ন সংযোজনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়।
পঞ্চদশ শতকে বিজয়নগর রাজ্যের মহারাজ দ্বিতীয় দেবরায় নিজে একজন শিবের উপাসক হলেও, ভিত্তলা(অর্থ বিষ্ণুদেবের অবতার) মন্দিরটি প্রভূ বিষ্ণূদেবের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছিল,তার কারণ স্থানীয় অধিবাসীগণ ছিলেন বিষ্ণুর উপাসক এবং হাম্পী সেইসময়য বৈষ্ণব ধর্মের ধর্মীয় রাজধানী হিসাবে পরিচিত ছিল।
বিজয় ভিত্তলা মন্দিরটি পরবর্তীকালে মহারাজ কৃষ্ণ দেবরায়(1509-1529খৃঃ) কর্তৃক বহূলাংশে সংযোজিত ও পরিবর্ধীত, হয়ে বর্তমান অবস্থায় রূপান্তরিত করা হয়েছিল।
* বিজয় ভিত্তলা মন্দিরের স্থাপত্য ও গঠনশৈলী।
বর্তমান ভিত্তলা মন্দিরটির স্থাপত্য ও গঠনশৈলীর ক্ষেত্রে প্রধানত দ্রাবীড়ীয় রীতি লক্ষ্য করা গেলেও হাম্পী নগরীর একই রীতিতে নির্মিত অন্যান্য মন্দিরের তুলনায় এখানে তৎকালীন বিজয়নগরের স্থাপত্য শিল্পীদের, কারুশিল্পের সূক্ষ্ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ নৈপুণ্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রাথমদিকে মন্দিরের আয়তন খুব বৃহৎ না হলেও, ধীরে ধীরে হাম্পী, চতুর্দশ শতকে বিজয়নগর রাজ্যের রাজধানী শহর হিসাবে আত্ম প্রকাশের সাথে সাথে, মন্দিরটির আকৃতি ও স্থাপত্যশৈলীর বহুল পরিবর্তন ঘটেছে।
* ঘুর্ণায়মান রথচক্রসহ বিশাল আকৃতির প্রস্তর নির্মিত রথ।
ভিত্তলা মন্দিরের সুউচ্চ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত বিশাল প্রাঙ্গনটির ভিতরে প্রবেশের জন্য তিনটি গোপুরম্ বা প্রবেশদ্বার রয়েছে, পূর্বদিকের গোপুরম্, যার শীর্ষভাগ বর্তমানে ভগ্নপ্রায়, প্রবেশ করলে প্রাঙ্গনের উপর মন্দিরের মূল আকর্ষণ, ঘূর্ণায়মান দুটি চাকাসহ প্রস্তর নির্মিত রথটি, দেখা যাবে।
রথটির সম্মুখভাগে পূর্বে দুটি ঘোড়ার অবয়বের ভগ্ন অংশ দেখা গেলেও বর্তমানে দুটি হাতীর পশ্চাৎ দিকের দুটি পা ও লেজের কিছু অংশ দৃশ্যমান রয়েছে এবং সম্পূর্ণ রথটি একটি কয়েক ফুট উচ্চ খোদিত কারুকার্যমণ্ডিত আয়তাকার ভিত্তির উপর স্থাপিত হয়েছে।
পূর্বে রথটির প্রস্তর নির্মিত চাকা দুটি ঘোরাণো যেত এবং মন্দিরে আসা ভক্তগণ ধর্মীয় আচরণের অঙ্গ হিসাবে অর্থাৎ পূণ্যলাভের জন্য সে দুটিকে ঘোরাতে পারত, যা বর্তমানে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
এই প্রস্তর রথটি সেযুগের নির্মাতাগণ প্রভূ বিষ্ণুদেবের বাহন পক্ষীদের রাজা গরুড় দেবের মন্দির রূপে নির্মান করেছিলেন এবং সেযুগে এই মন্দিরে যথাযথ মর্যাদায় তাঁর পূজার্চনাও হত।
অপূর্ব কারুকার্যশোভিত প্রস্তর রথটি দেখে মনে হবে যেন একটিমাত্র প্রস্তর কেটে সেটি তৈরী করা হয়েছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেটি বহুসংখ্যক গ্রানাইট প্রস্তর ব্লক দ্বারা এমনভাবে সংযুক্ত হয়েছে ও জোড়ার স্থানগুলি খোদিত প্রস্তরের অলঙ্করণে এমনভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে, যে বাইরের থেকে তা বোঝার উপায় নাই।
মহামন্ডপম্ :- কথিত আছে যে, প্রথম অবস্থায় মূল মন্দিরটির কেবলমাত্র একটি আচ্ছাদিত মণ্ডপ ছিল,, পরে 1554খৃঃ একটি উন্মুক্ত প্রাঙ্গন সংযোজিত হয়েছে এবং প্রস্তর রথটির সম্মুখভাগে কয়েকটি সিঁড়ি, ছোট ছোট হস্তী মূর্তি সজ্জিত রেলিংবেষ্টিত হয়ে স্বল্সোচ্চ মহামণ্ডপে প্রবেশ করেছে।
মহামণ্ডপের ভিত্তিটি দক্ষতার সঙ্গে কতকগুলি খোদিত প্রতিকৃতি যেমন, পৌরাণিক যোদ্ধা, অশ্বের সারি, তাদের প্রশিক্ষক ও অশ্ব ক্রয়কারী বণিক(এলাকাটি অতীতে ঘোড়া কেনাবেচার বাজার ছিল), ফুল, সরোবরে ভাসমান হংসরাজি ও আরো বহুপ্রকার সুসজ্জিত অলঙ্করণে গঠিত হয়েছে।
* সুসজ্জিত মহামণ্ডপ ও Yali প্রতিকৃতিসহ স্তম্ভসমূহ।
গোপুরম্ দিয়ে মূল মণ্দিরে প্রবেশ করে রথটির পরে মহামণ্ডপের পূর্বদিকের প্রবেশ পথে রয়েছে সুসজ্জিত চল্লিশটি 10ফুট উচ্চ স্তম্ভশ্রেণী।
মহামণ্ডপটি চারটি ক্ষুদ্রতর মণ্ডপবেষ্টিত ও মূল মণ্ডপটির আয়তাকার ছাদ 16টি স্তম্ভদ্বারা বেষ্টিত হয়ে রয়েছে, যেগুলিকে ধারণ করে আছে বৃহদাকৃতির নরসিংহ মূর্তি ও তার সঙ্গে বামনাকৃতি হস্তীর যুদ্ধরত প্রতিকৃতি, যেগুলি Yali নামে পরিচিত ও স্তম্ভগুলির সুসজ্জিত অলঙ্করণ, দর্শকগণকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে।
সম্পূর্ণ বিজয় ভিত্তলা মণ্দিরটি 164m/94.5m যুক্ত এক বিশালাকৃতির আয়তক্ষেত্রের পরিমণ্ডলের উপর দণ্ডায়মান এবং তার মহামণ্ডপটি 1665খৃঃ মুঘলদের আক্রমনে আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আজও তার গৌরবোজ্জ্বল অবস্থিতি তৎকালীন শিল্পীদের উৎকর্ষতার পরিচয় বহন করছে।
মহামণ্ডপটি চতুষ্পার্শ্বে চারটি উন্মুক্ত মণ্ডপ দ্বারা পরিবেষ্টিত য়ার মধ্যে পশ্চিম দিকের মণ্ডপটি ভেঙ্গে পড়লেও অন্যান্য উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিন দিকের মণ্ডপগুলি আজও অক্ষত অবস্থায় দণ্ডায়মান রয়েছে।
এই মণ্ডপের কেন্দ্রস্থলে সূক্ষ্ম কারুকার্যমণ্ডিত ষোলটি সুসজ্জিত স্তম্ভ একটি আয়তাকার অঙ্গনের সুচিত্রিত ছাদ ভিত্তলা মন্দিরের সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
* বিভিন্ন মণ্ডপ ও সুরের অনুরণন সৃষ্টিকারী স্তভসমূহ।
নৃত্যমণ্ডপ তথা রঙ্গমণ্ডপ :- মহারাজ কৃষ্ণ দেবরায়ের রাজত্বকালে নির্মিত প্রস্তর রথটির বীপরিতে অবস্থিত নৃত্য মণ্ডপটি প্রধানতঃ দেবতাকে নিবেদনের জন্য নৃত্যগীতাদি পরিবেশনের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হত এবং এই মণ্ডপের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এখানে মোট 54টি সুর ঝঙ্কার সৃষ্টিকারী স্তম্ভের মধ্যে মাত্র 18টি স্তম্ভ আজও ঝঙ্কৃত হয়।
ভিত্তলা মন্দিরে অত্যাশ্চর্য স্থাপত্য সুরনিনাদী বিশালাকৃতির গ্রানাইট পাথরের তৈরী স্তম্ভগুলির প্রতিটি 3.6মি উচ্চ এবং সেগুলি মণ্ডপের ছাদটিকেও ধারণ করে রয়েছে।
রঙ্গমণ্ডপের সুরনাদী স্তম্ভগুলির প্রতিটি এক একটি বাদ্যযন্ত্রের আকৃতি বিশিষ্ট ও সেগুলিকে সাতটি করে ক্ষুদ্রতর স্তম্ভ বেষ্টন করে রেখেছে এবং সেগুলিও সুর সৃষ্টি করে থাকে।
বর্তমানে স্থাপত্যশিল্পের বিস্ময় এই বিশাল মণ্ডপটির অনুরণন সৃষ্টিকারী এই স্তম্ভগুলি আজও প্রতিটি দর্শকের বিস্ময় সৃষ্টি করে এবং সেই কৌতূহল থেকে আশ্চর্যাণ্বিত হয়ে ভারতের বৃটিশ শাসকগণ ঐ স্তম্ভের ভিতরের রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য সচেষ্ট হয়।
বৃটিশ শাসকদের প্রতিনিধিস্বরূপ একদল বিশেষজ্ঞ বৈজ্ঞানিক এই মূল্যবান স্তম্ভের মধ্যে দুটিকে খণ্ডিত করে, ভিতরে কোনরূপ ব্যবস্থা করা আছে কিনা, যা থেকে এই সুর ঝঙ্কার সৃষ্টি হচ্ছে তা পরীক্ষা করে দেখেন ও সম্পূর্ণ হতাশ হন এবং আজও দর্শকগণ সেই স্তম্ভখণ্ডগুলি সেখানে পড়ে রয়েছে দেখতে পাবেন।
স্তম্ভগুলিকে বৃহত্তর ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার বর্তমানে সেগুলিকে আঘাত করে সুর সৃষ্টি সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
* রঙ্গমণ্ডপের ছাদ থেকে মুক্তাধারার বৈশিষ্ট্য।
রঙ্গমণ্ডপের অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল তার বিশেষভাবে নির্মিত ছাদ,যা বৃষ্টির জলধারার গতিবেগকে হ্রাস করে,তা ধীরে ধীরে ছাদের কিনারা দিয়ে পতিত হতে বাধ্য করে ও সেই বারিবিন্দুকে তখন মনে হয় যেন এক একটি মুক্তার মতো এবং নৃত্যগীতাদির আবহে তা এক মোহময় পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মন্দিরের গাত্রে উৎকীর্ণ বিভিন্ন শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, মহারাজ কৃষ্ণ দেবরায়ের অপরূপা সুন্দরী দ্বিতীয়া পত্নী মহারানী চিন্নাভা ছিলেন প্রভূ ভিত্তলা তথা বিষ্ণুর একজন অন্যতমা নৃত্য পরিবেশনকারিণী দেবদাসী, যিনি বিবাহের পরেও প্রভূ বিষ্ণুর সেবায় নৃত্য পরিবেশন করতেন।
মূল মহামণ্ডপ ও রঙ্গমণ্ডপ ছাড়াও হাম্পী শহরের অন্যতম বৃহৎ এই বিশাল মন্দির প্রাঙ্গনের মধ্যে রয়েছে কল্যাণ মণ্ডপম্, উৎসব মণ্ডপম্, পুরন্দর দাস মণ্ডপম্ ও বৃহৎ প্রস্তর রথ যা এই হাম্পী শহরের সুবৃহৎ এক ঐতিহাসিক যাদুঘরের পটভূমিতে আজও দর্শকবৃন্দের বিস্ময় সৃষ্টি করে।
প্রভূ ভিত্তলা তথা বিষ্ণুদেবের নিকট নৃত্য পরিবেশনের নিমিত্ত, বিভিন্ন আঙ্গিকে গুন কীর্তন করা প্রায় চার লক্ষের উপর শ্লোক রচনাকারী পুরন্দর দাসের নামাঙ্কিত একটি মণ্ডপও বিশেষ উল্লেখের দাবী রাখে।
* বিজয় ভিত্তলা মন্দিরের বর্তমান অবস্থা।
1665খৃঃ মুঘল আক্রমনের ফলে, পশ্চিম দিকের মণ্ডপটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ও সেই সঙ্গে বিজয়নগর রাজাদের রাজত্বেরও অবসান ঘটে।
বিজয় ভিত্তলা মন্দিরের মূল গর্ভগৃহে প্রাচীনকালে প্রভূ বিষ্ণুদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল ও তা নিত্য যথাযোগ্যরূপে পূজিত হত,কিন্তু বর্তমানে সেখানে কোন মূর্তিও নাই বা কোন পূজা-পাঠও হয় না।
ভিত্তলা মন্দিরের বর্তমান অবস্থার মধ্যে বিশাল রথটির চাকা দুটি পূর্বে ভক্তগণ ঘোরাতে পারলেও, বর্তমানে সেগুলিকে রক্ষার জন্য আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইণ্ডিয়া (ASI), তা সম্পূর্ণরূপে সিমেন্ট দ্বারা বন্ধ করে দিয়েছে।
রঙ্গমণ্ডপের সুরঝঙ্কার সৃষ্টিকারী স্তম্ভগুলি বহু বছর ধরে যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাই এরপর যাতে আরও ক্ষতি না হয়, সেজন্য সরকারীভাববে সেই ঝঙ্কার সৃষ্টির রীতিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভিত্তলা মন্দিরে যাওয়ার রাস্তাটি একটি অশ্ব ক্রয় বিক্রয়ের বাজার হিসাবে বিখ্যাত ছিল, যে বাজারের বর্তমানে কোন অস্তিত্ব নাই এবং সেই রাস্তাটি এখন ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।
ভিত্তলা মন্দিরটি ও তার বিশাল প্রাঙ্গনকে বর্তমানে আলোকমালায় সজ্জিত করা হয়েছে, যা অন্ধকার রাত্রির নিকষ কালো আঁধারকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে মন্দির ও তার এলাকা সম্পূর্ণ অন্য এক আলোক শোভায় উদ্ভাসিত করে তোলে।
* কিছু জ্ঞাতব্য বিষয় :-
* হেরিটেজ মিউজিয়াম, ভিত্তলা বাজার প্রবেশমূল্য নিম্নরূপ :-
ভারতীয়, সার্কভূক্ত(SAARC) ও বিমস্টেকভূক্ত(BIMSTEC) দেশের জন্য :- Rs 30/- অন্যান্য বিদেশীদের জন্য Rs 500/- ।
*15বছরের নীচে :- কোন প্রবেশমূল্য নাই।
* মিঊজিয়ামে ভিডিও ক্যামেরা :- Rs 25/-
*মিউজিয়াম দর্শনের সময় :- সকাল 10.00টা - 1.00টা ও বিকাল 3.00টা - 6.00টা
* ভিত্তলা মন্দিরে প্রবেশ মূল্য :- নাই
* মন্দির দর্শনের সময় :- সকাল :- 6.00am থেকে বিকাল 6.00pm।
* ফোটোগ্রাফী ও ভিডিও ক্যামেরা :- অবাধ,
* উৎসব :- মন্দির প্রাঙ্গনে বাৎসরিক শ্রীবিষ্ণু কীর্তন শ্লোক রচনাকার, কবি ও গায়ক পুরন্দর দাস উৎসব আজও সাড়ম্বরে প্রতিপালিত হয়।
* দর্শনীয় স্থান সমূহ :-
1) হাজার রাম মন্দির, হাম্পী,
2) বীরুপাক্ষ মন্দির, হাম্পী,
3) যন্ত্রধারক হনুমান মন্দির, প্রভূ হনুমানের মূর্তি,
4) হাম্পী নগরীর প্রধান আকর্ষণ হল তার বিশাল এলাকা জুড়ে পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, যেটিকে বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের হারানো ঐতিহ্য বা ইতিহাসের উন্মুক্ত যাদুঘর হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
5) শ্রীকৃষ্ণ মন্দির বা শ্রীবালগোপাল মন্দির,
6) হাম্পীর রাজপ্রাসাদ,
7) কাদালেকালু গণেশ মন্দির - প্রভূ গণেশের বিশাল মূর্তি,
8) ষোড়শ শতকের প্রভূ গণেশের আট ফুট উচ্চ সর্পবিজড়িত 'শশীভেকালু গণেশ' মন্দির, ইত্যাদি।
* কিভাবে যাবেন :-
* বিমানপথ :- হাম্পীর এই বিদ্ধস্ত শহরের অধুনা লুপ্ত ভিত্তলা বাজারের প্রান্তে অবস্থিত ভিত্তলা মন্দিরে যাবার জন্য শহরে কোন বিমান বন্দর না থাকায়, প্রায় 64কিমি দূরে বিল্লারী বিমান বন্দরটিই নিকটতম ও সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহন পাওয়া যাবে।
* রেলপথ :- মাত্র 10কিমি দূরে হোসপেট জংশন রেল স্টেশনটি নিকটতম ও সেখান থেকে বাস বা অন্য কোন যানবাহন সহজেই পাওয়া যাবে।
* সড়কপথ :- রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে হাম্পীর সড়ক পথে যোগাযোগ খুবই উন্নত।
সুধী পাঠকবৃন্দ! আশা করি লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। লেখাটি শেয়ার ও কমেন্ট করার অনুরোধ জানাই। ব্লগটি সম্পর্কে আপনাদের মূল্যবান বক্তব্য আমাদের প্রেরণা দেবে। ধন্যবাদ।