আদি শক্তিপীঠ কামাখ্যা
মা কামাখ্যা দেবালয়,গুয়াহাটি
আসাম, ভারতবর্ষ।
পিন : 781010
Adi Shaktipeetha Kamakhya
Ma Kamakhya Devalaya,
Guwahati, Asam, India.
PIN - 781010
সুপ্রাচীন কাল থেকে ভারতবর্ষ জাতি, ধর্ম, পোষাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, আচার-আচরণ প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে বিবিধতা সত্ত্বেও একসূত্রে গাঁথা মালার মতো স্বমহিমায় সমুন্নত এক দেশ।
বিশ্বকবির সেই মহান উক্তি, "বিবিধের মাঝে হেরো মিলন মহান" অথবা "দিবে আর নিবে, মিলিবে মিলাবে যাবে না ফিরে" যুগে যুগে সত্য হয়েছে।
কালে কালে যারাই ভারতবর্ষে এসেছে সেই সমস্ত জাতি, "শক, হুনদল, পাঠান, মোগল, এক দেহে হল লীন", আজ সবাইকে নিয়ে গঠিত হয়েছে আজকের এই ভারতবর্ষ।
ভারতবর্ষে হিন্দু ধর্মের মানুষ, যেমন শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব প্রভৃতি তাদের নির্দ্দিষ্ট ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পালনের জন্য মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছে ও পুরাণ অনুসারে সে সকল স্থান সমূহের মাহাত্মও সমভাবে বর্ণিত হয়েছে।
হিন্দুধর্মে শৈব ধর্মাবলম্বীদের জন্য যেমন, মহাদেবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির, পঞ্চ কেদার শৈব তীর্থ ইত্যাদি, বৈষ্ণবদের চতুর্ধাম তীর্থক্ষেত্র, সমভাবে শাক্তদের তন্ত্রসাধনার পীঠস্থান দেবী সতীর একান্ন-শক্তিপীঠ ভারতবর্ষে ও উপমহাদশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত রয়েছে।
দেবীর ৫১-শক্তিপীঠসমূহকে পূরাণ অনুসারে আদি শক্তিপীঠ, মহাশক্তিপীঠ, শক্তিপীঠ ও উপশক্তিপীঠ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি আদিশক্তিপীঠ, আঠারোটি মহশক্তিপীঠ ও অবশিষ্টগুলি শক্তিপীঠ ও উপশক্তিপীঠ রূপে বিবেচিত হয়ে থাকে।
পুরাণ বর্ণিত চারটি আদি শক্তিপীঠ হল,
"বিমলা পদখণ্ডঞ্চ, স্তনখণ্ডঞ্চ তারিণী,
কামাখ্যা যোনিখণ্ডঞ্চ, মুখখণ্ডঞ্চ কালিকা।" (দক্ষিণা কালী)।
অর্থাৎ দেবী সতীর উক্ত চারটি অঙ্গ যে সকল স্থানে পতিত হয়েছিল, তার মধ্যে, উড়িষ্যায় পদখণ্ড ও স্তনখণ্ড, যা দেবী বিমলা রূপে ও তারা-তারিণী রূপে, আসামের কামাখ্যায় যোনিখণ্ড দেবী কামাখ্যা রূপে এবং পশ্চিমবঙ্গের কালীঘাটে মুখখণ্ড দক্ষিণা কালী রূপে চারটি আদি মহাশক্তি পীঠসমূহে দেবী পূজিতা হন।
* শক্তিপীঠের উৎপত্তি।
প্রাচীনকালে মহারাজ দক্ষ প্রজাপতির কন্যা সতীদেবী প্রতিজ্ঞা করেন যে, তিনি মহাদেবকেই পতিত্বে বরণ করবেন, যা তাঁর পিতা মেনে নিতে পারেন নি, কারণ দেবতাদের মধ্যে শিব হলেন একমাত্র দেবতা যিনি গাঁজা, ভাঙ্, খান, শ্মশানে-মশানে ঘুরে বেড়ান ও তাঁর কোনও চাল-চূলো নাই, সেক্ষেত্রে পিতা হিসাবে তার সাথে তিনি প্রিয় রাজকন্যা সতীর বিবাহ দিতে পারেন না।
দেবী সতী তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়, এদিকে শিবও বিবাহে অনিচ্ছুক, তাই সতীদেবী শিবকে পতিরূপে পাওয়ার জন্যে, আরামপ্রদ, বিলাসবহুল, রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে, গভীর জঙ্গলে গিয়ে প্রাণপাত কঠোর তপস্যা শুরু করলেন।
সতী দেবীর দীর্ঘ তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব বিবাহে সম্মতি দিলেন ও পিতার অমতে দেবী শিবকে বিবাহ করে শিবের আলয় কৈলাসে যাত্রা করলেন এবং সুখে সংসার করতে লাগলেন।
কিছুকাল পর ক্রোধাণ্বিত দক্ষ মহারাজ কন্যার উপর প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে এক শিবহীন যজ্ঞের আয়োজন করলেন এবং অন্যান্য সকল কন্যা-জামাতাদের ও দেবতাদের সাদর আমন্ত্রণ জানালেও সতীদেবী ও মহাদেবকে কিছু জানালেন না।
এদিকে দেবলোকে শিব ছাড়া সকল দেবতারাও আমন্ত্রিত, এই সুযোগে দেবর্ষি নারদ কৈলাসে উপস্থিত হয়ে সতীদেবীর কাছে পাঁচকাহন করে বিষয়টি জানিয়ে দিলেন, যা শিবের কানেও পৌঁছাল।
সতীদেবী ঐ যজ্ঞে পিতৃগৃহে গমণের জন্য শিবের কাছে অনুমতি চাইলেন ও যথারীতি প্রত্যাখ্যাত হলেও তিনি তা মানলেন না এবং পতির বিনানুমতিতে, নন্দীকে সঙ্গে নিয়ে পিতৃগৃহে গমণ করলেন।
যজ্ঞস্থলে সতীকে দেখে মহারাজ দক্ষ তাঁর পূর্বের অপমানের শোধ নিতে শিবের নিন্দা শুরু করলে, সতীদেবী পতিনিন্দা সহ্য করতে না পেরে, তৎক্ষনাৎ সভাস্থলে প্রজ্জ্বলিত হোমকুণ্ডাগ্নিতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করেন।
সহচর নন্দী সেই মূহুর্তে কৈলাসে প্রত্যাবর্তন করে প্রভূকে সংবাদ দিলে, প্রিয়তমা পত্নীর মৃত্যুর জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে মহাদেব ভৈরব রূপ ধারণ করে দক্ষের সভাস্থলে উপস্থিত হলেন এবং দক্ষের মুণ্ডচ্ছেদ করে ও সতীর মৃতদেহ স্কন্ধে তুলে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য করতে করতে ভূমণ্ডলে ভ্রমণ শুরু করেন।
সৃষ্টি ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কায় দেবতাদের অনুরোধে প্রভূ নারায়ণ তাঁর 'সুদর্শন চক্র' দিয়ে দেবী সতীর দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করেন, এবং ঐ খণ্ডগুলি যে সকল স্থানে পতিত হয়, সেই স্থানগুলিতে দেবীর পরাশক্তির প্রকাশ বিদ্যমান, বলে তান্ত্রিক সাধনার পীঠস্থান তথা শক্তিপীঠ হিসাবে গণ্য হয়।
কথিত আছে ঐ শক্তিপীঠসমূহে দেবীশক্তির অভিভাবক তথা পাহারাদার হিসাবে ভৈরব রূপে স্বয়ং মহাদেব বিরাজ করেন, শক্তিপীঠ সমূহে দেবী যেমন বিভিন্ন নামে পরিচিতা, তেমনই তাঁর ভৈরবও বিবিধ নামে বিদিত হন এবং প্রতিটি শক্তিপীঠে একটি করে ভৈরবের মন্দিরও রয়েছে।
আজ আমরা ভারতের আসাম প্রদেশের গারো পর্বতে অবস্থিত দেবী কামাখ্যা শক্তিপীঠ সম্পর্কে এখানে আলোচনা করব।
* আদি শক্তিপীঠ কামাখ্যা যা শাক্ত মতে তন্ত্র সাধনার এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহা পীঠস্থান।
কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে দেবী কামাখ্যার মন্দির প্রাচীন অ্যাস্ট্রোএশিয়াটিক জনজাতি গারো ও খাসী গোষ্ঠীর মানুষ যাকে কামেইখা নামে উপাসনা করত ও সেটি তাদের বলিদান ক্ষেত্র ছিল।
চতুর্দশ শতকের কামরূপ গঠনের পূর্বে দশম শতাব্দীর কালিকা পুরাণ ও যোগিনীতন্ত্র মতে দেবী কামাখ্যা ছিলেন কিরাত গোষ্ঠীর জনগণ কর্তৃক পূজিতা দেবী।
শাক্ত মতে তন্ত্র সাধনার অন্যতম পীঠস্থান দেবী মাতা কামাখ্যার মন্দির আসামের রাজধানী গৌহাটির নীলাচল পর্বতে অবস্থিত শক্তিপীঠ যা, 'কুলাচার তন্ত্র মার্গ'" গ্রন্থ অনুসারে উক্ত সাধনার এক বিশেষ ক্ষেত্রস্বরূপ, তাছাড়া ভক্তজন সমাবেশে বাংলা আষাঢ় মাসে (ইংজুন মাস) অম্বুবাচী উপলক্ষ্যে বিশাল মেলাসহ এক মহা উৎসব পালিত হয়, এছাড়া সারা বছর ভক্ত সমাবেশে মন্দির মুখরিত ও পরিপূর্ণ থাকে।
কথিত আছে ঐ অম্বুবাচীর সময় মাতা ধরিত্রীর সাথে দেবী কামাখ্যাও ঋতুমতী হন ও সে সময়টি তন্ত্র সাধনার উপযুক্ত কাল বলে তন্ত্র সাধকগণ মনে করেন।
হিন্দু তীর্থযাত্রী ভক্তজনের মতে দেবীর এই পীঠ "কামরূপ-কামাখ্যা" তথা "কামনা, উর্বরতা ও সৃষ্টি শক্তি"র দেবী, যিনি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের জননী স্বরূপিনী, ব্রহ্মময়ী, মহাভাগবত পুরাণ অনুসারে তিনিই দশমহাবিদ্যা:-
"কালী, তারা, মহাবিদ্যা,ষোড়শী,
ভুবনেশ্বরী।
ভৈরবী, ছিন্নমস্তা চ, বিদ্যা, ধূমাবতী তথা।।
বগলা, সিদ্ধবিদ্যা চ মাতঙ্গী, কমলাত্মিকা।
এতা দশমহাবিদ্যাঃ সিদ্ধবিদ্যা প্রকীর্ত্তিতা।।"
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে দেবী কামাখ্যার মন্দির প্রাঙ্গনে এই দশমহাবিদ্যার পূজার্চনা হয়ে থাকে, যার মধ্যে, দেবী ত্রিপুরাসুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা মন্দিরের অভ্যন্তরে এবং অপর সাতজন দেবী প্রাঙ্গন মধ্যে অবস্থিত ভিন্ন ভিন্ন মন্দিরে পূজিতা হন।
* দেবী কামাখ্যা।
সেযুগে আসামের ঐ সকল স্থান প্রধানতঃ আদিম অধিবাসী অধ্যুষিত ছিল, তাই তাদের ধর্মীয় রীতি অনসারে মূর্তিবিহীন ধারণাপ্রসূত, বিশেষ প্রস্তর খণ্ড পূজিত হত, যে রীতি আজও প্রচলিত রয়েছে।
পরবর্তীকালে যখন কামরূপে মেচ্ছা রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হল, তারা দেবী কামাখ্যার মন্দিরের প্রতি দৃষ্টি দিলেন ও পরে পাল, কোচ ও অহোম বংশীয় রাজাগণও যথেষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা করেন ফলে, শুধুমাত্র দেবীর মাহাত্ম্য প্রচার নয়, সাথে সাথে কামরূপ রাজ্য সম্পর্কেও বাইরে সবাই জানতে পারে।
দেবী কামাখ্যার বর্তমান মন্দিরটি ষোড়শ শতকের পরবর্তী সময়ে, স্থানীয় স্থাপত্যরীতি নীলাচল ধরণ অনুসারে, যা অর্দ্ধ-গোলকৃতি গম্বুজ আকারে গড়ে ওঠে।
মন্দিরটির চারটি ভাগ রয়েছে, মূল গর্ভগৃহ, যেখানে দেবীর অবস্থান, তাছাড়া অপর তিনটি হল, পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত স্থানীয় ভাষায় চলন্ত, পঞ্চরত্ন ও নাটমন্দির নামে পরিচিত।
দেবীর মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরিস্থ শিখরটি তেজপুরের সূর্য মন্দিরের অনুকরণে একটি ভিত্তিমূলের উপরে পঞ্চরত্ন মৌচাকের ন্যায় শিখর যার উপরে প্লাস্টার করে নান্দনিক গণেশ মূর্তি ও অন্যান্য দেব-দেবীর মূর্তি খোদাই করা হয়েছে।
দেবীর গর্ভগৃহটি সমতল থেকে কিছুটা নিম্নভূমিতে অবস্থিত এবং সেখানে দেবীর কোন মূর্তি নাই, তবে দশ ইঞ্চি গভীরতা বিশিষ্ট্য একটি যোনি আকৃতির প্রস্তরখণ্ড যা সর্বদাই অন্তঃসলিলা ঝর্ণার জলে পূর্ণ থাকে এবং গর্ভগৃহটি ক্ষুদ্র, অন্ধকারাচ্ছন্ন ও খাড়াই সিঁড়ি বেয়ে পূজার্চনার জন্য নামতে হয়।
এছাড়া কামাখ্যা মন্দির প্রাঙ্গনে যে অপর সাতটি মহাবিদ্যা দেবী মন্দির রয়েছে, সেগুলিতে অধিষ্ঠিত দেবীরও কোন মূর্তি নাই, সেখানেও মাতা কামাখ্যার ন্যায় সমতল থেকে কিছুটা নিম্নভূমিতে অবস্থিত এবং যোনি আকৃতির প্রস্তর ও একই প্রকার অন্তঃসলিলা ঝর্ণার জলে সেগুলি পরিপূর্ণ থাকে।
আষাঢ় মাসের অম্বুবাচী মহোৎসব চলাকালীন সময়ে দেবী ঋতুমতী হন ও সেই সময় গর্ভগৃহের প্রস্রবনের জল (সম্ভবত আয়রন অক্সাইডের কারণে) রক্তবর্ণ ধারণ করে, যার জন্য এ ধরণের ঘটনা ঘটে থাকে।
* দেবীর মন্দির ও তার স্থাপত্যশৈলী।
কামাখ্যা দেবীর মন্দিরটি মূল গর্ভগৃহ ও অপর তিনটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত রয়েছে, যার পশ্চিমে আটচালা আকৃতির বর্গাকার প্রকোষ্ঠ, চলন্ত(এটি 1659সালে নির্মিত পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপূরের রাধা-বিনোদ মন্দিরের অনুরূপ), এর উত্তর দিকের দরজার ভিতর দিয়েই মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢালু সিঁড়ি বেয়ে প্রবেশ করতে হয়।
কামাখ্যা মন্দিরের চলন্ত প্রকোষ্ঠের অভ্যন্তরে দেবীর এক চলন্ত(movable) মূর্তি রয়েছে, সম্ভবত সেজন্যই এইরূপ নামকরণ করা হয়েছে এবং এর বাইরের দেওয়ালে প্রভূ নরসিংহ কর্তৃক দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপু বধ কাহিনীর খোদিত রূপ ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি খোদিত আছে।
মাতা কামাখ্যাদেবীর মন্দিরে চলন্ত প্রকোষ্ঠের পশ্চিমে পরবর্তী বৃহদাকার আয়তাকৃতি পঞ্চরত্ন প্রকোষ্ঠটির ছাদ সমতল হলেও তার উপর মূল মন্দিরের অনুকরণে পঞ্চরত্ন চূড়া রয়েছে, যার মধ্যম চূড়াটি অপরগুলি অপেক্ষা কিছুটা বেশী উচ্চ ও অনুরূপ সজ্জিত।
পঞ্চরত্নের পশ্চিমে পরবর্তী প্রকোষ্ঠটি হল নাটমন্দির ও সেটির বহির্দেওয়াল ওছাদের কিছুটা উচ্চ ধারগুলি(ridges) খুবই উচ্চ মানের প্রাচীনকালের ধর্মীয় মহাকাব্যিক কাহিনীর খোদিত ভাস্কর্য সম্বলিত রয়েছে এবং এইভাবে মূল মন্দিরের পশ্চিমে প্রকোষ্ঠগুলি সুবিস্তৃত রয়েছে।
মাতা কামাখ্যা দেবীর বর্তমান মন্দিরটি অহোম রাজবংশের রাজত্বকালে নির্মিত বলে ধারণা করা হলেও 1565সাল বা তার পাশাপাশি সময়ে মহারাজ চিলা রায় নির্মিত কোচ রাজাদের স্থাপত্যশৈলীতে গঠিত অংশটিও সযত্নে রক্ষিত হয়েছে।
* দেবী কামাখ্যার পূজা।
সুপ্রাচীন সংস্কৃত ভাষায় রচিত কালিকা পুরাণ অনুসারে দেবী ও মহাদেব এখানে নির্জনবাস করতেন এবং দেবী হলেন সৃষ্টির প্রতীক ও তিনিই হলেন মোক্ষদাত্রী(Goddess of salvation) এই স্থানে তিনি শক্তি তথা কামাখ্যা নামে পরিচিতা।
অতীতকাল থেকে অসমের আর্য ও অনার্য সকল দেবীগণের শাক্তমতে পূজা ও পালনীয় রীতিনীতির একটা সংমিশ্রণ ঘটেছে, যা আজও দেবীপূজার ক্ষেত্রে অসমে পালিত হয়ে চলেছে।
* কয়েকটি জ্ঞাতব্য বিযয় :-
" 1) মন্দির খোলার সময় এবং বন্ধের সময় :
সকাল :
5.30AM : পীঠস্থানের দেবীর স্নান,
6.00AM: দেবীর নিত্য পূজা,
8.00AM : ভক্তজনের জন্য দ্বার খোলে।
দুপুর :
1.00PM : দেবীর ভোগ নিবেদন ও ভক্তদের মধ্যে কুপন ভিত্তিক ভোগ বিতরণের পর দ্বার বন্ধ করা হয়।
2.30PM : মন্দির দ্বার পুনরায় খোলা হয়,
5.15PM : রাত্রির জন্য দ্বার বন্ধ হয়।
7.30PM : দেবীর সান্ধ্যকালীন আরতি।
" 2) দর্শন ফী : সাধারণের জন্য নাই,
++ Special VIP দর্শন ফী INR 501.00 প্রতিজন ও Defence Personnel INR 50.00,
++ Counter ছাড়া দর্শনের Online Booking হয় না।
" 3) উৎসব : আষাঢ় (June) মাসে অম্বুবাচী উৎসব ও মহামেলা, এছাড়া মনসা পূজা ও শারদীয়া দুর্গোৎসব।
" 4) ভ্রমণের উপযুক্ত সময় : অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস।
"5) ফটোগ্রাফী এখানে নিষিদ্ধ।
কিভাবে যাবেন :-
ক) সড়কপথ : সারা দেশের সঙ্গে সড়কপথে কামাখ্যা সুসংযুক্ত।
খ) রেলপথ : নিকটবর্তী রেলস্টেশন গুয়াহাটি ও সেখান থেকে সড়কপথে মন্দির যাওয়া যাবে।
গ) বিমানপথ : গুয়াহাটি Airport, সেখান থেকে 20কিমি ক্যাব/ট্যাক্সি বা বাস যোগে দেবী মন্দির পৌঁছানো যাবে।
" দর্শনীয় কিছু স্থান।
ক) দেবীর ভৈরব উমানন্দ শিবের নাম অনুসারে উমানন্দ দ্বীপ : ইংরেজ আমলে আকৃতির জন্য নাম ছিল Peacock Island, কথিত আছে দেবী কামাখ্যার দর্শনের পর দেবী শক্তির ভৈরব দর্শন পূজন না করলে পূণ্যলাভ সম্পূর্ণ হয় না। লঞ্চ পাওয়া যাবে। প্রবাদ যে,কামদেব এখানেই ভস্মীভূত হন।
খ) মাতা ভূবনেশ্বরী মন্দির : দেবী কামাখ্যা মন্দির থেকে সওয়া কিমি দূরত্বে। অবস্থিত নীলগিরি পর্বতের উপর চতুর্থ মহাবিদ্যা দেবী ভূবনেশ্বরীর মন্দির, যা নির্জনতার জন্য তান্ত্রিকদের খুব পছন্দের স্থান ও এখান থেকে ব্রহ্মপূত্র নদের শোভা খুবই দর্শনীয়।
গ) বশিষ্ঠ মুণির আশ্রম।
ঘ) তিরুপতি বালাজী মন্দির ইত্যাদি।
সুধী পাঠকবৃনদ! আশা করি লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। লেখাটি বেশী করে শেয়ার করুন ও কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।