List of Shaktipeethas in India and outside India. - Esso Pori- Read Now

Latest

মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০২১

List of Shaktipeethas in India and outside India.

    


List of Shaktipeethas in India and outside India.


List of Shaktipeethas in India and outside India.

ভারতবর্ষ ও বহির্ভারতের শক্তিপীঠ সমূহের তালিক

  

  আজ আমরা এই পরিসরে শক্তিপীঠ ও সেখানে দেবী সতীর দেহাংশ, সতী কালীকার নাম,  মহাদেবের নাম ও আবাসস্থল প্রভৃতি সম্বন্ধে আলোচনা করব। 

  

 পুরাণ বর্নিত কাহিনী ও শক্তিপীঠ সৃষ্টির আদি রহস্য

  

  সত্যযুগে প্রজাপতি ব্রহ্মার পুত্র মহারাজ দক্ষের কন্যা দেবী সতী মানস করেন যে তিনি দেবাদিদেব মহাদেবকে পতিত্বে বরণ করবেন। সেই সংকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি রাজপ্রাসাদ ত্যাগ করে গভীর অরণ্যে তপস্যা শুরু করেন। 

  তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট মহাদেব তাঁর প্রার্থনা পূর্ণ করেন ও তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

  কিন্তু দেবী সতীর পিতা দক্ষ সেই বিবাহ মন থেকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি।

  মহারাজ দক্ষ মহাদেবকে অপমান করতে এক শিবহীন 'বৃহষ্পতি যজ্ঞ'র আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে শিব ও দেবী সতী ছাড়া সকল দেবতা ও তাঁর অন্যান্য কন্যা-জামাতাদের আমন্ত্রন করেন।

  কিন্তু মহর্ষি নারদ তৎপরতার সাথে সংবাদটি কৈলাশধামে পৌঁছে দিলেন। দেবী সতী পিতৃগৃহে যাবার ইচ্ছা প্রকাশ করলে মহাদেব আপত্তি করেন যে, বিনা নিমন্ত্রনে সতীর যাওয়া ঠিক হবেনা।

  দেবী সতী তা মানলেন না। তিনি অনুচর নন্দীকেশকে সঙ্গে নিয়ে পিতৃগৃহে উপস্থিত হলেন। 

  পিতা মহারাজ দক্ষ সতীকে সামনে পেয়ে শিবনিন্দা শুরু করলে দেবী সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞের প্রজ্জ্বলিত অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দিয়ে আত্মবিসর্জন করলেন।

  পত্নীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ক্রুদ্ধ শিব তৎক্ষণাৎ সেখানে উপস্থিত হয়ে একগাছি জটা ছিন্ন করে নিজ অংশ রূপে কালভৈরব "বীরভদ্র"কে সৃষ্টি করলেন ও দক্ষ মহারাজকে হত্যা করলেন।

  এরপর, শোকাচ্ছন্ন শিব কালভৈরবরূপে দেবী সতীর দগ্ধ মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য করতে করতে ভূমণ্ডলে ভ্রমণ শুরু করেন।

  মহাদেবকে শান্ত করতে ও সৃষ্টি রক্ষার জন্য প্রভূ নারায়ণ তাঁর "সুদর্শন চক্র" দিয়ে সতীর দেহ 51টি খণ্ডে বিভক্ত করেন।

  দেবীর সেই দেহখণ্ডগুলি যেখানে পড়েছিল সেই সব স্থান শক্তিপীঠ হিসাবে খ্যাত হয়েছে। হিন্দুধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, শক্তিপীঠগুলিতে দেবীর পরাশক্তি বিরাজ করে। দেবী তাঁর ভৈরবসহ কালী, তারা, মহামায়া, ষোড়শী ভুবনেশ্বরী প্রভৃতি দশমহাবিদ্যার নামে ঐস্থানে অবস্থান করেন।   

  আজ ঐ স্থানগুলিকে, আদি শক্তিপীঠ, মহাশক্তিপীঠ ও উপশক্তিপীঠরূপে বিবেচনা করা হয় ও দেবীকে ও তার ভৈরবকে বিভিন্নরূপে পূজার্চনা করা হয়ে থাকে।  

   তন্ত্র মতে, আদি শক্তিপীঠগুলি হল এইরূপ, 

  " বিমলা পদখণ্ডঞ্চ

    স্তনখণ্ডঞ্চ তারিনী (তারা)

    কামাখ্যা যোনিখণ্ডঞ্চ

    মুখখণ্ডঞ্চ কালিকা

                     (দক্ষিনা কালী)।

  

  ভারতবর্ষ ও বিভিন্ন উপমহাদেশে অবস্থিত 51টি শক্তিপীঠ সমূহের তালিকা :-


  1) দেবী হিংলাজ মাতা শক্তিপীঠ

  স্থান :- শক্তিপীঠটি বর্তমানে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত।

  ক) দেহাংশ :- দেবীর ব্রহ্মরন্ধ্র (মস্তকের অংশ)

  খ) দেবী :- কোট্টারী

  গ) ভৈরব :- ভীমলোচন।


  2) অমরনাথ শক্তিপীঠ

  স্থান ;- জম্মু-কাশ্মীর, ভারত,

  ক) দেহাংশ :- দেবীর কণ্ঠ ও পায়ের নুপুর,

  খ) দেবী :- মহামায়া,

  গ) ভৈরব :- ত্রিসন্ধ্যেশ্বর।  


  3) অট্টহাস শক্তিপীঠ

  স্থান :- লাভপুর, বীরভূম পশ্চিমবঙ্গ, ভারত,

  লাভপুর রেল স্টেশন থেকে মন্দিরের দূরত্ব মাত্র 2কিমি।

  ক) দেহাংশ :- দেবীর ঠোঁট,

  খ) দেবী :- ফুল্লরা,

  গ) ভৈরব :- বিশ্বেশ বা বিশ্বেশ্বর, 

  কথিত আছে, সর্বসিদ্ধিদায়ক প্রভূ শিব এখানে বাস করেন।

   

  4) বাহুলা শক্তিপীঠ

  স্থান :- কেতুগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্টিম বঙ্গ, ভারত,

  কাটোয়া শহর থেকে মন্দিরের দূরত্ব মাত্র 8কিমি।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিণ বাহু, 

  খ) দেবী :- বাহুলা,

  গ) ভৈরব :- ভীরুক বা ভীরুকেশ্বর, 

  কথিত আছে দেবী বাহুলা ভক্তের সকল মনোবাসনা পূর্ণ করেন।


  5) বক্রেশ্বর শক্তিপীঠ

  স্থান :- বক্রেশ্বর, বীরভূম, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত, 

  মন্দিরটি পাপহরা নদীর তীরে অবস্থিত। বীরভূমের জেলা শহর সিউড়ি থেকে দূরত্ব মাত্র 24কিমি ও লাভপুর রেল স্টেশন থেকে মাত্র 7কিমি।

  ক) দেহাংশ :- ভ্রুমধ্য বা দুই ভুরুর মধ্যাংশ, 

  খ) দেবী :- মহিষাসুরমর্দিনী,

  গ) ভৈরব :- বক্রনাথ বা বক্রেশ্বর,

  

  6) ভৈরব পর্বতে হরসিদ্ধি শক্তিপীঠ :- 

  স্থান :- শিপ্রা নদী তীরে মধ্য প্রদেশের  উজ্জ্বয়িনী শহরে, শক্তিপীঠ হরসিদ্ধি, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- হাতের কনুই,

  খ) দেবী :- অবন্তী,

  গ) ভৈরব :- লম্বকর্ণ,


  7) ভবানীপুর শক্তিপীঠ

  স্থান :- বগুড়া জেলার শেরপুর থেকে মাত্র 28কিমি দূরত্বে করতোয়া নদীতীরে অবস্থিত। বাংলাদেশ।

  ক) দেহাংশ :- বাম পায়ের গোড়ালি, 

  খ) দেবী :- অপর্ণা

  গ) ভৈরব :- বামন দেব/বিক্রম,


  8) বিমলা/বিরজা শক্তিপীঠ

         (আদি শক্তিপীঠ)

  পুরাণ মতে, "বিমলা পদখণ্ডঞ্চ"। এখানে দেবীর পায়ের অংশ পতিত হয়েছিল। কিন্তু কথিত আছে যে, এখানে দেবীর নাভিমূল পতিত হয়।


  স্থান : পুরী, জগন্নাথ মন্দিরের সন্নিকটে, উড়িষ্যা, ভারত

  ক) দেহাংশ :- নাভিমূল,

  খ) দেবী :- বিমলা / বিরজা, 

  গ) ভৈরব :- জগন্নাথদেব, 


  9) ছিন্নমস্তিকা শক্তিপীঠ

  স্থান :- হিমাচল প্রদেশের চিন্তাপূর্ণি জেলা, ভারত

  ক) দেহাংশ :- পায়ের পাতা,

  খ) দেবী :- ছিন্নমস্তিকা,

  গ) ভৈরব :- রুদ্র মহাদেব।


  10) মুক্তিনাথ শক্তিপীঠ, নেপাল।

  (কথিত আছে, এখানে সাধকের সিদ্ধিলাভ নিশ্চিত)।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন চিবুক,

  খ) দেবী :- গণ্ডকী চণ্ডী, 

  গ) ভৈরব :- চক্রপানি।


  11) নাসিক শক্তিপীঠ, মহারাষ্ট্র, ভারত।

  ক) দক্ষিন ও বাম গণ্ডদেশ, 

  খ) দেবী :- ভদ্রকালী,

  গ) ভৈরব :- বিকৃতাক্ষ।


  12) জয়ন্তীয়া পাহাড়ের নর্তঙ্গ গ্রামে দেবীর শক্তিপীঠ, মেঘালয়, ভারত।

  (স্থানীয়ভাবে নর্তঙ্গ বা নর্তিয়াঙ্গ দুর্গা মন্দির নামে পরিচিত। এখানে খাসিয়া পর্বতের পাদদেশে দেবীর উরুদেশের প্রতিকৃতি দেখিতে পাওয়া যায়)।

  ক) দেহাংশ :- বাম জঙ্ঘা বা জানু,

  খ) দেবী :- জয়ন্তী, 

  গ) ভৈরব :- ক্রমদীশ্বর।


  13) যশোরেশ্বরী শক্তিপীঠ

  যশোর জেলা, বাংলাদেশ।


  "যশোরে পানিপদ্মঞ্চ,

     দেবতা যশোরেশ্বরী।

  চণ্ডশ্চ ভৈরবঃ যত্র,

     তত্র সিদ্ধ ন সংশয়ঃ।।"


   ক) দেহাংশ :-  হাতের তালু

   খ) দেবী :- যশোরেশ্বরী, 

    গ) ভৈরব :- চণ্ড।


  14) জ্বালাজী শক্তিপীঠ

  পাঠানকোটের কাঙ্গড়া উপত্যকা থেকে জ্বালামুখি রোড স্টেশনে নেমে মন্দির মাত্র 20কিমি পথ। ভারত।

 ক) দেহাংশ :- জিহ্বা,

  খ)  দেবী :- সিদ্ধিকা (অম্বিকা), 

  গ)  ভৈরব :- উন্মত্ত ভৈরব।

    

  15) কালীপীঠ কালীঘাট

            (আদিপীঠ)

  কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

   ক) দেহাংশ :- ডান পায়ের পাতা,

   খ) দেবী :- কালিকা,

                    (দক্ষিণা কালিকা)  

   গ) ভৈরব :- নকুলেশ্বর।


  16) নীলাচল পর্বতের কামগিরি, কামাখ্যা শক্তিপীঠ, আসাম, ভারত।

             (আদিপীঠ)

  এখানে সাধনা করলে "মোক্ষ" অর্থাৎ  সিদ্ধিলাভ অবশ্যম্ভাবী। দেবী সত্বঃ, রজঃ, তমঃ ত্রিগুনধারিনী এবং মোক্ষদাত্রী।

  ক) দেহাংশ :- যোনি,

  খ) দেবী :- কামাখ্যা,

  গ) ভৈরব :- উমানন্দ/ ভয়ানন্দ।


  17) কঙ্কালীতলা শক্তিপীঠ

  কোপাই নদীর তীরে বোলপুর থেকে উত্তর-পূর্বে 10কিমি। বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- শ্রোনী,

  খ) দেবী :- দেবগর্ভা ,

  গ) ভৈরব :- রুরু।


  18)। অ) ভগবতী কন্যাকুমারী শক্তিপীঠ

  ভারতের দক্ষিন সীমায় অবস্থিত, কন্যাকুমারী, তামিলনাড়ু, ভারত।


  18)। আ) অনেকের মতে, এটি চীনদেশের উনার প্রদেশে অবস্থিত। উনার, চীন।


  18। ই) আবার কারও মতে, এটি গৌরীকুণ্ড শক্তিপীঠ, 

  সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশে অবস্থিত।

  ক) দেহাংশ :- পৃষ্ঠদেশ, 

  খ) দেবী :- শর্বাণী,

  গ) ভৈরব :- নিমিষ বা নিমিষেশ্বর।


  19) বিরাজেশ্বরী শক্তিপীঠ

  নাগারকোট জেলা, কাঙ্গরা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- বাম স্তন,

  খ) দেবী :- জয়দুর্গা, 

  গ) ভৈরব :- অভিরুক।


  20) কিরীটেশ্বরী শক্তিপীঠ

  গ্রাম :- কিরীটকণা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- কিরীট তথা মুকুট,

  খ) দেবী :- বিমলা, 

  গ) ভৈরব :- সংবর্ত।


  21) রত্নাবলী শক্তিপীঠ

  খানাকূল ব্লক 1, আরামবাগ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  মন্দিরটি রত্নাকর নদীতীরে অবস্থিত।

  ক)  দেহাংশ :- দক্ষিন স্কন্ধ,

  খ) দেবী :- কুমারী

  গ) ভৈরব :- ঘণ্টেশ্বর শিব। 


   22) অ) ভ্রামরী দেবী শক্তিপীঠ

  জলপাইগুড়ি জেলার বোদা গ্রামে তিস্তা বা ত্রিস্রোতা নদীতীরে অবস্থিত।

জলপাইগুড়ি, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- অ) বামপদ/বাম হাঁটু,

  খ) দেবী :- ভ্রামরী,

  গ) ভৈরব :- অম্বর।

   22)আ) প্রচলিত বিশ্বাস মতে, হাওড়া জেলার আমতা শহরে দেবীর বাম হাঁটু পতিত হয়। পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

 

  23) মানস শক্তিপীঠ

  কৈলাশ পর্বতের পাদদেশে মানস সরোবরে অবস্থিত। তিব্বত, চীন।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন হস্ত,

  খ) দেবী ;- দাক্ষায়নী, 

  গ) ভৈরব :- অমর।


  24) মণিবন্ধ শক্তিপীঠ

  আজমের থেকে 11কিমি উত্তর-পশ্চিমে পুস্কর হ্রদের নিকটে গায়ত্রী পর্বতে মণিবন্ধে অবস্থিত। স্থানীয় জনগন এটিকে চামুণ্ডামাতা মন্দির বলে থাকে।

  মতান্তরে, পুরুহুতা মণিবেদিক রাজরাজেশ্বরী শক্তপীঠ নামেও অভিহিত হয়।

  ক) দেহাংশ :- মণিবন্ধ, করগ্রন্থি,

  খ) দেবী :- গায়ত্রী 

  গ) ভৈরব :- সর্বানন্দ


  25) জনকপুরী রেল স্টেসনের সন্নিকটে মিথিলা শক্তিপীঠ 

  ভারত এবং নেপাল সীমান্ত অঞ্চল।

  ক) দেহাংশ :- বাম স্কন্ধ, 

  খ) দেবী :- ঊমা,

  গ) ভৈরব :- মহোদর।


  26) নয়নাতিভূ (মণিপল্লবম্) শক্তিপীঠ

  শ্রীলঙ্কার উত্তরাংশে জাফনার প্রাচীন রাজধানী 30 কিমি দূরত্বে নাল্লুরে অবস্থিত।

  কথিত আছে, দেবরাজ ইন্দ্র স্বয়ং এখানে এই দেবীর পূজার্চনা করেছিলেন।

  রাময়ণে বর্ণিত রাবন ও রামচন্দ্র এখানে এই দেবীর আরাধনা করেছিলেন।

  পুরাণে উল্লেখিত নাগ ও গরুড়ের দীর্ঘদিনের  বিবাদ এই দেবীর অর্চনা করার পর মিটে গিয়েছিল।

  ক) দেহাংশ :- শিলাম্বু/নুপুর,

  খ) দেবী :- ইন্দ্রাক্ষী (নাগপূর্ণী) / ভুবনেশ্বরী, 

  গ) ভৈরব :- রাক্ষসেশ্বর।


27) গুহেশ্বরী/গুহ্যেশ্বরী শক্তিপীঠ

  কাটমাণ্ডু, নেপাল।

  গুহ্যেশ্বরী শক্তিপীঠ পশুপতিনাথ মন্দির থেকে মাত্র 1কিমি দূরে বাগমতী নদীতীরে অবস্থিত। তান্ত্রিক সাধকগণের আদর্শ এক সাধনক্ষেত্র। রাজা প্রতাপমল্ল 17শ শতকে এই মন্দিরটি স্থাপন করেন। স্থানীয়ভাবে গুম্ফা ঈশ্বরীও বলা হয়।

  ক) দেহাংশ :- দুই হাঁটু,

  খ) দেবী :- মহাশিরা,

  গ) ভৈরব :- কপালী।


  28) চন্দ্রনাথ শক্তিপীঠ,  সীতাকুণ্ড, বাংলাদেশ

  বাংলাদেশের চন্দ্রনাথ পর্বতের শীর্ষে সীতাকুণ্ড  নামক স্থানে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা 1020ফুট/ 310মিটার।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন বাহু,

  খ) দেবী :- ভবানী,

  গ) ভৈরব :- চন্দ্রশেখর,

  

  29) বারাহী দেবী শক্তিপীঠ

  পঞ্চসাগর, চম্পাবত, উত্তরাখণ্ড, ভারত।

  চম্পাবত জেলার  লোহাঘাটের নিকটে টনকপুর রেল স্টশন থেকে 12কিমি।

  ক) দেহাংশ :- নীচের দন্তপংক্তি,

  খ) দেবী :- বারাহী,

  গ) ভৈরব :- মহারুদ্র।


  30) প্রভাস শক্তিপীঠ

  জুনাগড় জেলার সোমনাথ মন্দিরের নিকটে ভারভাল স্টেশন থেকে মাত্র 4কিমি দূরে। নিকটেই ত্রিবেনী সঙ্গম। 

গুজরাট, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- পাকস্থলী, 

  খ) দেবী :- চন্দ্রভাগা,

  গ) ভৈরব :- বক্রতুণ্ড।


  31) আলোপী দেবী শক্তিপীঠ

  সঙ্গম, প্রয়াগরাজ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- অঙ্গুলি

  খ) দেবী :- ললিতা,

  গ) ভৈরব :- ভবেশ্বর।


  32) কুরুক্ষেত্র শক্তিপীঠ

  প্রাচীন স্থানেশ্বর তথা থানেশ্বর, কুরুক্ষেত্র, হরিয়ানা, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন পদ গুল্ফ,

  খ) দেবী :- স্থানু/সাবিত্রী/ভদ্রকালী,

  গ) ভৈরব :- অশ্বনাথ।


 33) সারদা শক্তিপীঠ

  ত্রিকূট পর্বত, মাঈহার, মধ্যপ্রদেশ,  ভারত।

  ( মাঈ = মা ও হার = গলার অলঙ্কার)

 ক) দেহাংশ :- দক্ষিন বক্ষ/ হার,

  খ) দেবী :- শিবানী,

  গ) ভৈরব :- চণ্ড।


  34) নন্দীকেশ্বরী শক্তিপীঠ

  সাঁইথিয়া, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  ক)দেহাংশ/অলঙ্কার :- গলার অলঙ্কার, 

  খ) দেবী :- নন্দিনি, 

  গ) ভৈরব :- নন্দীকেশ্বর, 


  35) কামাখ্যা শক্তিপীঠ

            (আদিপীঠ)

  নীলাচল, আসাম, ভারত।

  শাক্ত মতে তন্ত্র সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পীঠস্থান।

  স্তোত্রঃ

  "কামখ্যা বরদে দেবী,

    নীল পর্বত বাসিনী,

   ত্বম্ দেবী জগতম্ মাতা, 

   যোনি মুদ্রে নমস্তুতে।"

  ক) দেহাংশ :- মহামুদ্রা যোনিপীঠ,

  খ) দেবী :- কামাখ্যা,

  গ) ভৈরব :- উমানন্দ।

  

  36) কোটিলিঙ্গেশ্বর শক্তিপীঠ

  গোদাবরী নদীতীরে কোটিলিঙ্গেশ্বর ঘাট, রাজমুন্দ্রীর নিকটে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। তামিলনাডু, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- চিবুক,

  খ) দেবী :- রাকিনী/বিশ্বেশ্বরী,

  গ) ভৈরব :- দণ্ডপানি।


  37) নয়নাদেবী শক্তিপীঠ

  হিমাচল প্রদেশ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন চক্ষু,

  খ) দেবী :- মহিষমর্দিনী, 

  গ) ভৈরব :- ক্রোধীশ।

 

  38) শোনদেশ শক্তিপীঠ

  নর্মদা নদীর উৎসস্থল অমরকণ্টকে অবস্থিত। মধ্যপ্রদেশ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন নিতম্ব,

  খ) দেবী :- নর্মদা,

  গ) ভৈরব :- ভদ্রসেন।


  39) শ্রীশৈলম্ শক্তিপীঠ

  নাল্লামালা পর্বতে অবস্থিত। অন্ধ্র প্রদেশ, ভারত।

  দেহাংশ :- গলা,

  দেবী :- ভ্রমরাম্বিকা,

  ভৈরব :- মল্লিকার্জুন।


  40) সুগন্ধা শক্তিপীঠ

  শিকারপুর, গৌরনাড়ী, বাংলাদেশ।

  বরিশাল শহর থেকে 20কিমি দূরত্বে সৌগন্ধা নদীতীরে অবস্থিত।

  ক) দেহাংশ :- নাসিকা,

  খ) দেবী :- সুগন্ধা,

  গ) ভৈরব :- ত্র্যম্বক।


  41) ত্রিপুরেশ্বরী বা ত্রিপুরাসুন্দরী  শক্তিপীঠ। এটিকে কুর্মপৃষ্ঠ শক্তিপীঠও বলা হয়। ত্রিপুরার প্রাচীন রাজধানী উদয়পুরের রাধাকিশোরপুরের নিকটে কুর্মপৃষ্ঠাকৃতি এক অনুচ্চ পর্বতশীর্ষে মন্দিরটি অবস্থিত। ত্রিপুরা, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- দক্ষিন পদ

  খ) দেবী :- ত্রিপুরাসুন্দরী,

  গ) ভৈরব :- ত্রিপুরেশ।


  42) উজ্জানী শক্তিপীঠ

  কোগ্রাম, মঙ্গলকোট, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  গুসকরা স্টেশন থেকে 18কিমি দূর।

  ক) দেহাংশ :- কুর্পরদেশ অর্থাৎ কনুই।

  খ) দেবী :- মঙ্গলচণ্ডিকা,

  গ) ভৈরব :- কপিলাম্বর।

  দেবীর বাম দিকে গৌরীপট্টহীন শিবলিঙ্গ, বৃষ ও ধ্যানী বুদ্ধমূর্তি রয়েছে।


 43)  মনিকর্ণিকা শক্তিপীঠ,কাশী

  বারানসীর পবিত্র গঙ্গানদীর তীরে মনিকর্ণিকা ঘাটে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। উত্তর প্রদেশ, ভারত।

  ক) দেহাংশ/ ভূষণ :- কর্ণ কুণ্ডল, 

  খ) দেবী :- বিশালাক্ষী/মনিকর্ণি,

  গ) ভৈরব :- কালভৈরভ।


  44) বিভাস তথা তাম্রলিপ্ত বা তমলুক শক্তিপীঠ

  প্রাচীন শক্তিপীঠ। তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- বাম গুল্ফ, 

  খ) দেবী ভীমরূপা বর্গভীমা,

  গ) ভৈরব :- সর্বানন্দ।


  45) আলোপী শক্তিপীঠ

  আলোপীবাগ, বর্তমান প্রয়াগরাজ, উত্তরপ্রদেশ, ভারত।

  এই শক্তিপীঠের সন্নিকটে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

  ক) দেহাংশ :- হস্তের দশ অঙ্গুলি,

  খ) দেবী :- ললিতা (দেবী আলোপীর নামকরণ)।

  গ) ভৈরব :- ভব।


  47) কাত্যায়নী শক্তিপীঠ

  মথুরার বৃন্দাবনে, উত্তরপ্রদেশ, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- কেশচূড়ামণি,

  খ) দেবী :- উমা/কাত্যায়নী, 

  গ) ভৈরব :- ভূতেশ।


  48) তালাব শক্তিপীঠ

  জলন্ধর, পাঞ্জাব, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- বাম স্তন,

  খ)দেবী :- ত্রিপুরমালিনী, 

   গ) ভৈরব :- ভীষণ।


  49) কামাক্ষী শক্তিপীঠ

  কামাক্ষী আম্মান মন্দিরের কিছুটা পশ্চাতভাগে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত। কাঞ্চীপূরম্, তামিলনাড়ু, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- গলদেশ,

  খ) দেবী :- কামাক্ষী, 

  গ) ভৈরব :- অজানা।


  50) যোগাদ্যা শক্তিপীঠ

  অন্নদামঙ্গল কাব্যে বলা হয়েছে, --  "ক্ষীরগ্রামে ডানি পার অঙ্গুষ্ঠ ভৈরব

যুগাদ্যা দেবতা ক্ষীরখণ্ডক ভৈরব।"


  বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট ব্লকের নিকটে ক্ষীরগ্রামেএই দেবীপীঠ অবস্থিত। দেবী এখানে এক দীঘির জলে বাস করেন। 

  বছরে 4দিন জনগণ দেবীর দর্শন পান ও মাত্র 6দিন দেবীকে জল থেকে তোলা হয়। বৈশাখ সংক্রান্তির পূর্বদিন, জৈষ্ঠের 4 তারিখ, এছাড়া, আষাঢ়ী নবমী, বিজয়া দশমী, 15ই পৌষ ও মাঘ মাসের মাকরী সংক্রান্তিতে।

  ক) দেহাংশ :- ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ/ ডান পায়ের পাতা,

  খ) দেবী :- যোগাদ্যা,

  গ) ভৈরব :- ক্ষীরখণ্ডক/ ক্ষীরকণ্ঠ।


  51) পীঠপুরম্ শক্তিপীঠ

  বন্দর শহর কাঁকিনাড়া, অন্ধ্র, ভারত।

  ক) দেহাংশ :- নিতম্ব, 

  খ) দেবী :- পুরহোতিকা/পুরহুতিকা/ কালী, 

  গ) ভৈরব :- অসিতানন্দ।


  বর্ণিত এই শক্তিপীঠগুলিতে দেবীর প্রস্তরীভূত অঙ্গসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদায় রক্ষিত ও পূজিত হয়। সাধারণতঃ 51টি শক্তিপীঠের কথা বলা হলেও পাশিপাশি বিভিন্ন শাস্ত্রে পীঠগুলির সংখ্যা ও স্থান সম্বন্ধে মতভেদ আছে।

  শিবচরিত গ্রন্থে 51টি শক্তিপীঠের সঙ্গে 26টি উপপীঠের উল্লেখ আছে।জনার্ণব ও কুব্জিকাতন্ত্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে 50টি ও 42টি।

  

  সুধী পাঠক পাঠিকাগণ! আশা করি এই লেখা দ্বারা আপনাদের শক্তিপীঠ সংক্রান্ত অনেক কৌতুহল নিবৃত্ত হবে। 

  লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার ও কমেণ্ট করুন। পরবর্তী লেখার জন্য আমাদের ব্লগের দিকে লক্ষ্য রাখুন। ধন্যবাদ।