Shri Ram janmabhoomi Ayodhya history in Bengali
শ্রীরাম জন্মভূমি, অযোধ্যা
শ্রীরামলালা মন্দির
অযোধ্যা, উত্তর প্রদেশ,
ভারত।
Sri Ram Janmabhumi, Ayodhya
Sri Ramlalla Temple
Ayodhya, Uttarpradesh, India.
* অবতার পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র।
ভারতবর্ষে প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় মনোভাবাপন্ন ব্যক্তি তথা সমাজ, বিভিন্ন ধর্মের পরিসরটিকে নানাভাবে সম্বর্ধন, সংযোজন ও পরিপোষণ করে এসেছেন, যা সকল ধর্মমতের ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য।
হিন্দু ধর্মমত অনুসারে পৃথিবীতে মানব জীবনের কালকে, প্রধান চারটি যুগে বিভক্ত করা হয়েছে, যথা সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি এবং বলা হয় যে, প্রভূ বিষ্ণুদেব এই চারি যুগে মোট দশটি অবতাররূপে আবির্ভূত হয়ে পৃথিবীকে কলুষ মুক্ত করবেন ও মনুষ্যকুলকে বিনাশের হাত থেকে রক্ষা করবেন।
সত্য, ত্রেতা ও দ্বাপর যুগে বিষ্ণু নয়টি অবতার যথা, মৎস্য, কুর্ম, বরাহ, নরসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ এবং এখনও আবির্ভূত নাহওয়া কল্কি প্রভৃতি দশটি অবতারের মধ্যে, প্রভূ শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন সপ্তম অবতার, যিনি পিতৃসত্য পালনের জন্য, পিতার জ্যেষ্ঠপুত্র হয়েও সিংহাসন ত্যাগ করে চোদ্দ বছরের জন্য বনবাসে কাটিয়েছেন।
শ্রীরামচন্দ্র বনবাসে থাকাকালীন লঙ্কার অত্যাচারী রাক্ষসরাজ রাবণকে নিধন করেন ও সমাজকে কলুষ মুক্ত করেন।
* শ্রীরাম মন্দির নির্মাণের পটভূমি।
বর্তমানকালে ভারতবর্ষের হিন্দু ধর্মের বিকাশের ক্ষেত্রে অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের প্রেক্ষাপট অবশ্যই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে, এবং তা অবশেষে আইনি জটিলতার বেড়াজাল অতিক্রম করে সাফল্যলাভ করেছে।
শ্রীরামের জন্মভূমি সম্পর্কে, প্রাচীন প্রায় এক হাজার খৃষ্টপূর্বাব্দের ঘটনা, যা হিন্দু ধর্মগ্রন্থ রামায়ণে বর্ণিত সরযূ নদীর তীরে, মহারাজ দশরথের রাজধানী অযোধ্যার উল্লেখ ও বর্তমান ভারতবর্ষের অঙ্গরাজ্য উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যার অবস্থান, এক সমাপতনকে আপাতভাবে সঠিক বলে ধরে নেওয়া হয়।
হিন্দুরা বিশ্বাস করে যে, শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থল, সম্ভবত যেখানে পরবর্তীকালে আফঘানিস্থান থেকে আগত মুঘল সম্রাট বাবরের (1526-1530) সেনাপতি জনৈক মীর বাকী বা মীর বাকী তাশখন্দ(Mir Baqi perhaps Mir Baqi Tashkhand) ঐস্থানে অবস্থিত হিন্দু মন্দির, যা পূর্বকাল থেকে স্বমহিমায় অবস্থিত ছিল, সেটি ধ্বংস করে (1528-1529) সেখানে বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন।
* রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ সম্পর্কিত বিবিধ ঘটনা।
কয়েক শতাব্দী প্রাচীন মন্দির-মসজিদ বিবাদ 1853খৃঃ 'নির্মোহী আখড়া' নামে এক হিন্দু ধর্মীয় সম্প্রদায়, সশস্ত্র আক্রমনে বাবরি মসজিদ দখল করে নিজেদের দাবী প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, যার ফলে তৎকালীন স্থানীয় প্রশাসন 1855খৃঃ মসজিদের এলাকাটিকে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ করে দেন।
এরপর, হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিছু ব্যক্তি 1883খৃঃ তাদের অংশে প্রভূ শ্রীরামের পূজার জন্য মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নিলে, এলাকার প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে বাধা দান করে এবং তারা বিষয়টিকে 1885খৃঃ আদালতে নিয়ে যায়, যা পণ্ডিত হরিকিষাণ সিং নামে একজন সাব-জজ দীর্ঘ শুনানীর পর 1886খৃঃ আবেদন নাকচ করেন ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেন।
1949সালে ঘটনাটি এক নাটকীয় মোড় নেয় এবং এইসময় হিন্দুরা রাতারাতি মসজিদের অভ্যন্তরে রাম-সীতার মূর্তি স্থাপন করে দাবী করে যে প্রভূ স্বয়ং পত্নী সীতাদেবীসহ আবির্ভূত হয়েছেন ও তার ফলে হাজার হাজার পূণ্যার্থী রামলালা ও সীতাদেবীর দর্শন কামনায় সেখানে উপস্থিত হতে শুরু করে।
প্রশাসনের তরফ থেকে গেট তালাবদ্ধ করে স্থানটিকে "বিতর্কিত এলাকা" হিসাবে ঘোষণা করলে, হিন্দু পক্ষ রামলালার নিত্য পূজার্চনার দাবীতে আদালতের শরণাপন্ন হয় ও বহু সংখ্যক মামলা দায়ের করা হয়।
2010সালে এলাহাবাদ উচ্চ আদালত একটি আদেশ প্রদান করেন যে, বিতর্কিত মন্দির-মসজিদ এলাকার 2.77একর জমিটিকে তিনভাগে ভাগ করে 1) একভাগ রামলালার, যা দেওয়া হবে তার প্রতিনিধি হিন্দু মহাসভাকে 2) একভাগ সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডকে ও 3) অপর একভাগ দেওয়া হবে হিন্দু ধর্মীয় "নির্মোহী আখড়া"কে, যে রায় কোন পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি ও তারা অবশেষে সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, আইনি সর্বক্ষেত্রে পক্ষে-বিপক্ষে বহুতর বাদ বিসম্বাদ, আলোচনা ইত্যাদি চালিয়ে যেতে থাকে যা, বাবরি মসজিদ বিতর্ক হিসাবে দেশের সর্বত্র পরিচিতি লাভ করে।
* মন্দির সংলগ্ন এলাকায় খননকার্য।
প্রথম খনন
আদালতের আদেশক্রমে ভারতের প্রত্নতাত্বিক জরিপ বিভাগ(Archaeological Survey of India) কর্তৃক 1976-77সালে Mr. B.B.Lal এর নেতৃত্বে বিতর্কিত মসজিদ এলাকায় খননকার্য চালিয়ে মসজিদের বারোটি স্তম্ভ(Pillar), যাদের ভিত্তিটি পবিত্র পূর্ণ কলস আকৃতির এবং পঞ্চপল্লব বেরিয়ে আছে এমন ঘট, যা হিন্দুদের অষ্টমঙ্গল চিহ্নের মধ্যে একটি এবং বহুসংখ্যক, মনুষ্য, প্রানী প্রভৃতির চিহ্ন সম্বলিত টেরাকোটা স্থাপত্য পায়, যা প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের অংশ হিসাবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয় খনন
পুনরায় 2003 সালে আদালতের নির্দেশক্রমে ভারতের প্রত্নতাত্বিক জরিপ বিভাগের পঞ্চাশ সদস্যের অধিক একটি দল, খননকার্য চালিয়ে দ্বাদশ শতকের পঞ্চাশটির বেশী স্তম্ভ পায়, যেগুলি হিন্দু স্থাপত্যের অংশস্বরূপ ও তা নিশ্চিতভাবে প্রমান করে যে সেই স্থানে হিন্দু মন্দির ছিল, যা ভেঙ্গে ও তার মালমশলা দিয়েই মসজিদ তৈরী হয়েছিল।
অন্যান্য প্রমান সমূহ
ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগের মন্দির এলাকায় খননকার্যের ফলে একটি কুমীরের প্রতিকৃতির "মকর প্রনালী" পেয়েছেন, যাকে পূণ্যতোয়া মকরবাহিনী গঙ্গানদীর পবিত্র জলে রামলালার স্নান পর্বের পর প্রবহমান জল অর্থাৎ "অভিষেক জল" যা মস্তকে ধারণ করলে পূণ্যার্থীগণের সকল পাপ ধুয়েমুছে যায় এবং সেটি হিন্দু ধর্মের প্রচলিত রীতি, যা বাবরি মসজিদে হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব প্রমান করে।
বাবরি মসজিদের ইতিহাসে যে ঘটনা সারা ভারতবর্ষে আলোড়ন সৃষ্টি করে তা হল 1992সালের 6ই ডিসেম্বর অসংখ্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের ঐ মসজিদ আক্রমন ও ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা এবং তার ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উভয় পক্ষের প্রায় দু'হাজার জন মানুষের প্রানহানি ঘটে।
এরপর 2019সাল সুপ্রীম কোর্টে(Indian Supreme Court) আইনি মামলা ওঠে ও পাঁচ জন বিচারকের বেঞ্চ 2019সালের অগাষ্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ শুনানীর পর বিগত 09ই নভেম্বর 2019 এক ঐতিহাসিক রায়ে বিচারকগণ বাবরি মসজিদের জমি হিন্দুপক্ষকে হস্তান্তর করতে আদেশ প্রদান করেন।
সুপ্রীম কোর্ট একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাঁচ একর জমি অন্যত্র সুন্নী ওয়াকফ বোর্ডকে মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রদান করারও আদেশ দেন।
বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে, যথাযথ আইনসিদ্ধ বিভাগ ASI ঐ এলাকায় খনন কার্য পরিচালনা করে ও এই সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার পর, ভারবর্ষের বিচার ব্যবস্থার উচ্চতম ন্যায়ালয় কর্তৃক হিন্দূ ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের বক্তব্য শোনার পর, যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তাকে সরকারীভাবে যথাযথ মান্যতা দেওয়া হয়েছে।
বিগত 2020সালের 05ই ফেব্রুয়ারী ভারত সরকার কর্তৃক শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র (Sri Ram Janmabhumi Teerth Kshetra) সংক্ষেপে SRJBTK নামে একটি ট্রাস্ট গড়ে তোলা হয়েছে।
* মন্দির সংক্রান্তকয়েকটি জ্ঞাতব্য তথ্য :-
1) প্রধান দেবতা :- রাম লালা ( শ্রীরাম চন্দ্রের শিশু রূপ),
2) ট্রাস্ট :- শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র(SRJBTK),
3) স্থান ;- রাম জন্মভূমি, অযোধ্যা, উত্তর প্রদেশ, ভারত,
4) নির্মাণকারী স্থপতি :- মূল স্থপতি চন্দ্রকান্ত সোমপুরা ও সহযোগী তাঁর দুই পুত্র, আশীষ ও নিখিল সোমপুরা, যাঁরা ঊর্দ্ধতন পঞ্চদশ পুরুষানুক্রমে সারা পৃথিবীতে সোমনাথ মন্দিরসহ শতাধিক মন্দির, নির্মাণের কৃতিত্ব ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন।
5) নির্মাণকারী সংস্থা :- লারসেন আ্যণ্ড টুব্রো(Larsen and Tubro), যাদেরকে সাহায্য করবে টাটা কন্সালটিং ইঞ্জিনিয়ারস(Tata consulting Engineers), CBRS, National Geophysical Research Institute এবং IITs of Kanpur, Mumbai and Guahati.
6) 25শে মার্চ 2020 উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় যোগী আদিত্যনাথজীর উপস্থিতিতে মহাসমারোহে স্বয়ম্ভূ শ্রীরামলালার মূর্তি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
7) শ্রীরামলালার মন্দিরটি পরিকল্পনা অনুসারে তিনতলা বিশিষ্ট হবে ও শিখরসহ 161ফুট উচ্চ হবে ও প্রতিটি তলার উচ্চতা হবে 20ফূট।
8) প্রতিটি তলায় স্তম্ভসংখ্যা :- নীচের তলায় 160টি, দ্বিতীয় তলায় 132টি ও তৃতীয় তলায় 74টি স্তম্ভ থাকবে।
9) Indian Space Research Organisation রামলালার মন্দিরের তলা দিয়ে প্রবহমান প্রাচীন সরযূ নদীর সন্ধান পেয়েছেন।
10) মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ দ্বারের সংখ্যা হবে 12টি ও মন্দিরের সিঁড়িগুলি প্রতিটি 16ফুট লম্বা হবে।
11) উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় শ্রীরামলালার মন্দিরটি নির্মাণের পর, এটি হবে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম হিন্দু মন্দির।
12) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজি মন্দির প্রাঙ্গনে স্বহস্তে একটি "পারিজাত বৃক্ষ"এর চারা রোপন করেছেন।
* শ্রীরাম লালা মন্দির নির্মাণ ও তার বিভিন্ন তথ্যসমূহ।
অযোধ্যায় এ এস আই কর্তৃক খোড়াখুঁড়ির সময়ে প্রচুর দেবদেবীর মূর্তি, মন্দিরের স্তম্ভ, শিখর, পোড়ামাটির দেবদেবীর মূর্তি, নরনারীর মূর্তি ও শিবলিঙ্গ ইত্যাদি যা পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি ভবিষ্যতে নির্নীয়মান যাদুঘরের জন্য সযত্নে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে 2020সালের মার্চ মাসে শ্রীরাম মন্দির নির্মাণের জন্য ভূমি সমান্তরকরণ ও ক্ষেত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হলেও COVID-19 প্যানডেমিক পরিস্থিতি ও লক ডাউন প্রভৃতির কারণে তা কিছুটা সময় স্থগিত রাখা হয়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণের অন্যতম প্রধান দেবতা প্রভূ শ্রীরামলালার জন্মস্থান পূণ্যক্ষেত্র অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য গত 5ই আগস্ট 2020 ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী ভূমিপূজা করেন।
মন্দিরের জন্য নির্দিষ্ট জমির মধ্যে দশ একর পরিমাণ জমিতে মম্দির প্রাঙ্গনের মধ্যে শ্রীরামলালার(শিশু শ্রীরাম) মূল মন্দির ও সূর্য, শিব, দুর্গা, গণেশ ও ব্রহ্মার মন্দিরসহ মোট ছ'টি মন্দির থাকবে।
বাস্তু ও শিল্প শাস্ত্রমতে বিচার বিবেচনার পর সামান্য পরিবর্তন সাপেক্ষে নতুন ডিজাইন সাব্যস্ত হয়েছে, যা উত্তর ভারতীয় গুর্জর-চালুক্য শিল্পরীতির স্থাপত্যের অনুসারী।
অযোধ্যায় রামলালার মন্দিরটি একটি উচ্চ ভূমির উপর স্থাপিত হবে।
প্রায় তিরিশ বছর আগে হাজার হাজার ভক্ত বিভিন্ন ভাষায় "শ্রীরাম" লেখা দু'লক্ষের বেশী ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির ইঁট দেশের নানান প্রান্ত থেকে অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে নিয়ে আসেন ও তখন সেগুলিকে সযত্নে রেখে দেওয়া হয়েছিল এবং এখন সেগুলিকে মন্দিরের ভিত্তি নির্মাণে ব্যবহার করা হবে বলে স্থির হয়েছে।
এছাড়া, রাজস্থানের বংশী পাহাড় থেকে প্রায় ছ'লক্ষ কিউবিক ফুট স্যাণ্ডস্টোন পাথর দিয়ে মন্দির গড়ে তোলা হবে।
মন্দিরটি সম্পূর্ণ প্রচলিত পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হবে, যা দীর্ঘকাল ধরে প্রাকৃতিক সমস্ত প্রকার দুর্যোগকে উপেক্ষা করতে পারবে এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনপ্রকার লৌহ নয় দশ সহস্র তাম্র পাত দ্বারা পাথরের ব্লকগুলিকে জোড়ার কাজ করা হবে।
মন্দিরের গর্ভগৃহকে বেষ্টন করে উত্তর ভারতীয় নাগারা শৈলীর শিখর সম্বলিত পাঁচটি মণ্ডপ থাকবে, যার প্রবেশপথে তিনটি মণ্ডপ, কুডু, নৃত্য ও রঙ এবং অন্যদিকে দু'টি মণ্ডপ, কীর্তন ও প্রার্থনা নামে পৃথক পৃথক উদ্দেশ্যে নির্মিত হবে।
প্রভূ বিষ্ণুর মন্দির নির্মাণের জন্য শাস্ত্রবিধি অনুসারে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে শ্রীরামলালার মন্দিরের গর্ভগৃহটিও অষ্টভূজাকৃতির হবে।
প্রস্তাবিত মন্দিরটিতে 360টি স্তম্ভ(pillar) থাকবে যার প্রত্যেকটিতে 16টি করে প্রতিমূর্তি থাকবে, যেগুলির মধ্যে মহাদেবের বিভিন্ন রূপ, বিষ্ণুদেবের দশাবতার রূপ, দেবী সরস্বতীর দ্বাদশ প্রতিমূর্তি ও 64 যোগিনী মূর্তি খোদিত থাকবে।
* কিভাবে যাবেন :-
1) বিমান পথ :- নিকটতম আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর লখনৌ(130কিমি) ও আভ্যন্তরীণ ফৈজাবাদ বিমান বন্দর(7-8কিমি)।
2) রেল পথ :- উত্তর রেলপথে অবস্থিত লখনৌ ও অযোধ্যা উভয় স্থানই সুসংযুক্ত।
3) সড়ক পথ :- সমগ্র ভারতবর্ষের সঙ্গে অযোধ্যার সুষ্ঠু সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।
* অযোধ্যায় দর্শনীয় স্থানসমূহ :-
1) শ্রীরাম জন্মভূমি এলাকা, 2) হনুমান গড়ি মন্দির, 3) কনক ভবন মন্দির, 4) সীতা কি রসুই, 5) নাগেশ্বরনাথ মন্দির, 6) রাম কথা পার্ক, 7) তুলসী স্মারক ভবন 8) সরযূনদী তীরে স্বর্গদ্বার, ইত্যাদি।
সুধী পাঠকবৃন্দ! আশা করি লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। এধরণের লেখার জন্য আমাদের ব্লগটির প্রতি লক্ষ্য রাখুন। বন্ধু, আত্মীয় ও ভ্রমণার্থীদের কাছে শেয়ার ও কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।