Ramappa Temple in Bengali - Esso Pori- Read Now

Latest

বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২২

Ramappa Temple in Bengali

        Ramappa Temple in Bengali.

Ramappa Temple in Bengali.


Rudreshwar  Shiva Temple, 



   রুদ্রেশ্বর(রামাপ্পা) শিব মন্দির

   জেলা - মুলুগু, ওয়ারাঙ্গাল, তেলেঙ্গানা, 

  ভারত


  (একটি UNESCO অনুমোদিত World Heritage Site)


  Rudreshwar (Ramappa Temple) Shiva Temple, 

 District - Mulugu,  Warangal,    

          Telengana, India.


  A UNESCO's World Heritage Site


   ভারতবর্ষ জুড়ে বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থিত বিবিধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের কারণে গড়ে ওঠা মন্দির, মঠ, মসজিদ, গীর্জা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান যুগে যুগে নির্মিত হয়েছে এবং সেগুলি ভক্ত ও ভ্রমণ পিপাসু জনগণের বিশেষ আকর্ষণ স্থল হয়ে উঠেছে।


  সেগুলির আকৃতি, উচ্চতা, বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত গঠনশৈলী, নির্মাণ কৌশল, অলঙ্করণ, ও ধর্মীয় উৎসব ইত্যাদির আকর্ষণ যুগে যুগে বিশেষতঃ ধর্মপ্রাণ মানুষকে সেখানে টেনে নিয়ে গিয়েছে।


  এক্ষেত্রে, ভারতবর্ষের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, মধ্য কোন অঞ্চলই কম নয়,তবে আজ আমরা তেলেঙ্গানার একটি বিশেষ মন্দির নিয়ে এখানে আলোচনা করব, যা শুধুমাত্র ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে 25শে জুলাই 2021তারিখে স্বীকৃতই হয়নি, তার অপর একটি বৈশিষ্ট্য হল, সেটি তার স্থপতিকে স্মরণীয় করে স্থপতি রামাপ্পার নামেই নামাঙ্কিতও হয়েছে,যা সম্ভবতঃ সারাবিশ্বে একমাত্র উদাহরণ।


  মন্দিরে প্রাপ্ত এক শিলালিপি থেকে, মন্দির স্থাপনের তারিখ 1135সম্বত-শক 8ই মাঘ যা ইংরাজী তারিখ 12ইজানুয়ারী 1214 বলে জানা য়ায়।


    * মন্দির নির্মাণকাল ও কতিপয় বৈশিষ্ট্য।


  রুদ্রেশ্বর(রামাপ্পা) মন্দিরে পাওয়া এক শিলালিপি থেকে জানা যায় যে, ত্রয়োদশ শতকের প্রথমভাগে কাকাতিয়া রাজবংশের মহারাজ গণপতি দেবের(1199-1262) রাজত্বকালে তাঁর এক সুযোগ্য সেনাপতি রেচার্লা রুদ্র রেড্ডী কর্তৃক 1213সালে ওয়ারাঙ্গালের রামাপ্পা লেকের তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে ওঠে।


  ইং 1212 থেকে 1234 সালের মধ্যে রুদ্রেশ্বর(রামাপ্প) মন্দির প্রাঙ্গনে, মোট তিনটি মন্দির, স্থপতি রামাপ্পার, গঠন পরিকল্পনা ও স্থাপত্যরীতিতে গড়ে তোলা হয়েছিল।


  রামাপ্পা মন্দির প্রাঙ্গনটি একটি তারকা আকৃতির 6ফুট(1.5মি) উচ্চ প্রস্তর নির্মিত প্লাটফর্ম, যার উপর মন্দিরটি দণ্ডায়মান রয়েছে।


  মন্দিরে গর্ভগৃহের সম্মুখভাগে অবস্থিত বিশাল কক্ষটি বহু সংখ্যক স্তম্ভ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে, যেগুলির উপর, বিভিন্ন ভঙ্গিমায় নৃত্যরতা নারী মূর্তি, বাদ্যকর, বিবিধ ও বিচিত্র আকৃতির পৌরাণিক জীবকুলের খোদিত প্রতিকৃতি সম্বলিত এবং স্তম্ভগুলি গঠন ও স্থাপনের ক্ষেত্রে এমন আশ্চর্যজনকভাবে সুপ্রযুক্ত হয়েছে, যেখানে আলো ও শূণ্যতার আশ্চর্যজনক মিলন ঘটেছে।


  মন্দিরের স্তম্ভগাত্রে খোদিত মূর্তি সমূহ এতটাই দৃষ্টিনন্দন ও সজীব যা দেখে মনে হয়, এগুলিই কাকাতিয়া বংশের রাজত্বকালে শিল্পীদের নির্মিত শিল্পশৈলীর চরমতম নিদর্শনস্বরূপ। 


  ইটালির ভূপর্যটক বণিক মার্কো পোলো কাকাতিয়া সাম্রাজ্যে পর্যটনকালে রুদ্রেশ্বর(রামাপ্পা) শিব মন্দিরটি পরিদর্শণ করে মন্তব্য করেন, "The brightest star in the galaxy of temples of the Deccan" যার বাংলাঘ করলে বোঝায়, দাক্ষিনাত্যের মন্দির সমূহের ছায়াপথে এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র বিশেষ।


      * মন্দিরের গঠনশৈলী।


  মূল রুদ্রেশ্বর(রামাপ্পা) শিব মন্দিরটি প্রধানতঃ ধুসর লাল রঙের বেলেপাথর(sandstone) দিয়ে তৈরী হলেও, মন্দিরের বহির্ভাগের স্তম্ভগুলির গাত্র চতুর্দিকে বেষ্টনকারী কালো ব্যাসাল্ট পাথরের মোটা মোটা স্তরসহ লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম বালুকা ইত্যাদির সংমিশ্রনে নির্মিত স্তম্ভগুলি মন্দির গঠনে সন্নিবেশিত হয়েছে। 


  রামাপ্পা মন্দিরের গর্ভগৃহের ছাদ নির্মাণে ও আনুভূমিকভাবে ধাপে ধাপে ক্রমাগত চূড়ায় পৌঁছানো বিমান নির্মাণে, যে ইঁটগুলি ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলি সম আকৃতির সাধারণ মাটির তৈরী ইঁট অপেক্ষা 1/3 থেকে 1/4 ভাগ হাল্কা ফলে তা জলে ভাসে, এবং ছাদ ও বিমানের ভার বহুলাংশে লাঘব করেছে।


 ঐ ধরণের স্পঞ্জী ইঁট নির্মাণের‌ ক্ষেত্রে কাঠের গুঁড়া জাতীয় বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে বলে পরীক্ষায় ধরা পড়েছে।


  গ্রাণাইট ও ডোলেরাইট প্রস্তর নির্মিত বিবিধ খোদিত শিল্প সুষমা সজ্জিত মন্দিরের স্তম্ভ ও বীমগুলি, যা কাকাতিয়া রাজত্বকালে সেযুগের শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পীদের  দক্ষতার সুনিপুন প্রয়োগ কৌশলে আজও সমুজ্জ্বল রয়েছে।

 

  রুদ্রেশ্বর(রামাপ্পা) মন্দির প্রাঙ্গনে, মূল মন্দিরের উভয় পার্শ্বে আরও দু'টি অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির শিব মন্দির রয়েছে, এছাড়াও বিশাল আকৃতির অক্ষত নন্দীকেশ মূর্তি, মহাদেবের দিকে যেন নন্দীমণ্ডপে প্রভূর আদেশের জন্য অপেক্ষারত।


      * পেরিণী শিব তাণ্ডবম্ নটরাজ নৃত্য।


  পেরিণী শিব তাণ্ডবম্  নৃত্যশৈলী খুবই প্রাচীন, যা তেলেঙ্গানায় হিন্দু ধর্মে ধ্বংসের দেবতা প্রভূ মহাদেবের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য কাকাতিয়া রাজাদের রাজত্বকালে আরম্ভ ও বিস্তারলাভ করেছিল।

  

  সেযুগে যুদ্ধ যাত্রার প্রাক্কালে কাকাতিয়া  সৈন্যগণ  মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে যুদ্ধে জয়লাভের জন্য এই নৃত্য অনুশীলন করত এবং পেরিণী যার অর্থ 'প্রেরণা'(inspiration) তাণ্ডব নৃত্যম্ সৈন্যদলের  মনোবল তথা  অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ বৃদ্ধি করত, যা আজকের দিনেও প্রধানতঃ পুরুষদের দ্বারাই আচরিত হয়ে থাকে।

  

  কাকাতিয়া রাজবংশের দু'শো বছরের রাজত্বকালের অবসানের পর, এই পেরিণী নৃত্যম্ প্রথা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে এসেছিল, পদ্মশ্রী নটরাজ রামকৃষ্ণ এখানে রুদ্রেশ্বর মন্দিরে জয়াপা সেনানীর "নৃত্য রত্ন" নৃত্য ভঙ্গিমার ভাস্কর্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে, ঐ পেরিণী তাণ্ডভম্ নৃত্যশৈলীকে পুনরুজ্জীবিত করে তুলেছেন।


  'পেরিণী তাণ্ডভম্ নৃত্য' দেবাদিদেব মহাদেবের পরম শক্তিকে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রকৃষ্ট পদ্ধতি বলে তেলেঙ্গানার ধর্মপ্রাণ ভক্তগণ মনে করেন ও তাঁরা ভক্তিসহকারে তা দেবতাকে নিবেদন করেন।


    * রুদ্রেশ্বর (রামাপ্পা) মন্দিরের বর্তমান অবস্থা ও অবস্থানগত দিক।


  রুদ্রেশ্বর মন্দিরটি পালামপেট ভেঙ্কটাপুর মণ্ডলে অবস্থিত যার দূরত্ব ওয়ারাঙ্গাল শহর থেকে প্রায় 66কিমি(41মা), মুলুগু মণ্ডল থেকে 19কিমি (12মা) এবং তেলেঙ্গানার রাজধানী শহর হায়দরাবাদ থেকে 209কিমি(130মা)।


  রূদ্রেশ্বর(রামাপ্পা) মন্দিরটি পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ কৃষিক্ষেত্র ও বনানীর মধ্যে অবস্থিত এবং তার নিকটেই রয়েছে কাকাতিয়া রাজাদের নির্মিত 'রামাপ্পা চুরুভূ'  জলাধারের তীরভূমি, এছাড়া সন্নিকটে  রয়েছে 'হারভালেম্' জলপ্রপাত, যে শান্ত পরিবেশ অবশ্যই নয়নাভিরাম।


  ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ নির্দেশিত আদর্শ ও  ধর্মানুচরণের জন্য উপযোগী মন্দির স্থাপনের স্থান হিসাবে এলাকাটিকে নির্বাচনে কাকাতিয়া রাজন্যবর্গের এই সিদ্ধান্তটি অবশ্যই বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়। 


   রুদ্রেশ্বর মন্দিরটি বারংবার আক্রমণ, যুদ্ধ, লুণ্ঠন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি কারণে বহুবার খারাপ পরিস্থতি সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও আজও অটুট রয়েছে।


  সপ্তদশ শতকের ভয়াবহ ভূমিকম্পেও রুদ্রেশ্বর মন্দির অবিচল রয়েছে, তার কারণ এই মন্দিরের ভিত্তিটি স্যাণ্ডবক্স টেকনিক পদ্ধতিতে নির্মিত হয়েছিল, তবে কিছু কিছু ছোট অংশ ও বহির্দেওয়ালের প্রবেশ দরজাটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।


    * কয়েকটি জ্ঞাতব্য বিষয়।


  # প্রধান দেবতা :- রুদ্রেশ্বর মহাদেব, যাঁকে 

রামলিঙ্গেশ্বর স্বামীও বলা হয়।

   # প্রকৃষ্ট সময় :- অক্টোবর থেকে মার্চ।

   #  বিশেষ উৎসব :- শিবরাত্রি।

   #  মদির খোলা ও বন্ধের সময় :-;সকাল 6.00টা থেকে সন্ধ্যা 6.00টা।

   # প্রবেশ মূল্য :- নাই।


  * দর্শনীয় স্থানসমূহ :- 

  1) রামাপ্পা লেক 2) লাকনাভরম লেক 3) বোগাথা জলপ্রপাত, 4) কাকাতিয়াদের নির্মিত স্টেপ ওয়েল, 5) শ্রীবীরনারায়ণ মন্দির 6) ওয়ারাঙ্গাল ফোর্ট ইত্যাদি।

‌‌   

  * কি ভাবে যাবেন :- 


  # বিমান পথ :- হায়দরাবাদ রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর (238কিমি)। সেখান থেকে ট্রেনে,বাসে বা গাড়িতে।


  # রেলপথ :- ওয়ারাঙ্গাল রেলওয়ে স্টেশন (65কিমি) ও সেখান থেকে বাসে বা গাড়িতে।


  # সড়ক পথ :- ভারতের বিভিন্ন সহরের সাথে সড়কপথ যোগাযোগ খুবই উন্নত। রামাপ্পা বাস স্ট্যাণ্ড থেকে মন্দির খুবই সন্নিকটে।


  সুধী পাঠকবৃন্দ! আশা করি লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। লেখাটি শেয়ার করুন ও কমেণ্ট করুন। ধন্যবাদ।