Panch Kedar pilgrimage in Bengali.
পঞ্চ কেদার শৈব তীর্থ পরিক্রমা।
ভারতবর্ষে হিন্দু ধর্মে বিশেষভাবে শৈব তীর্থক্ষেত্রগুলির মধ্যে উত্তরাখণ্ডে হিমালয়ের গাড়োয়াল পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত পঞ্চ-কেদার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় পুণ্যধাম। আমরা এই ব্লগে সেই পাঁচটি কেদার ক্ষেত্র সম্পর্কে পাঁচটি পর্বে "পঞ্চ কেদার পরিক্রমা" পরপর প্রকাশ করব। সেগুলি সম্বন্ধে জানতে, আমাদের এই ব্লগটির প্রতি লক্ষ্য রাখুন। শেয়ার করুন ও গঠন মূলক মন্তব্য করুন।
আজ ঐ পাঁচটি খণ্ডের মধ্যে প্রথম পর্ব কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির।
পঞ্চ কেদার পর্ব ---1.
কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির,
কেদারনাথ সহর,জেলা - রুদ্রপ্রয়াগ,
রাজ্য - উত্তরাখণ্ড, ভারত।
পিন - 246445
Kedarnath jyotirlinga Shiva Temple
Kedarnath Town, Dist - Rudraprayag
State - Uttarakhand, India.
PIN - 246445
(হিন্দু ধর্মের একটি অন্যতম প্রধান তীর্থ কেদার ক্ষেত্র, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে সমুদ্র পৃষ্ঠতল থেকে সর্বোচ্চ ও ছোট চার ধামের অন্যতম কেদারনাথ ধাম ও পঞ্চ কেদার ক্ষেত্রের প্রথম তীর্থস্থান)।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রদেশে অবস্থিত দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির সমূহের অবস্থানগত বিচারে হিমালয়ের সর্বোচ্চ অংশে স্থাপিত মন্দিরটির নাম কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির, যা কেদারনাথ ধাম হিসাবে পরিচিত।
হিন্দু পূণ্যার্থী ভক্তজনের নিকট প্রধান চার ধাম, হল বদ্রীনাথ ধাম, দ্বারকা ধাম, পুরী ধাম ও রামেশ্বরম্ ধাম, যার মধ্যে প্রথম তিনটি ধাম, প্রধানত বিষ্ণুর মন্দির ও রামেশ্বরম্ শিব মন্দির হিসাবে পরিচিত, যেগুলি আদি শঙ্করাচার্যের মতে অবশ্য দর্শনীয়।
এছাড়া, উত্তরাখণ্ডে অবস্থিত ছোট চার ধাম হল, যমুনোত্রীতে দেবী যমুনা, গঙ্গোত্রীতে দেবী গঙ্গা, কেদারনাথ ধামে প্রভূ মহাদেব ও বদ্রীনাথ ধামে প্রভূ বিষ্ণুর অবস্থান স্থল, যেখানে স্নান, দর্শন ও পূজন হিন্দু ধর্মে বিশেষভাবে পালনীয় কর্তব্য হিসাবে বিবেচিত হয়।
* কেদারনাথ শিব ধাম।
ভারতবর্ষের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে হিমালয়ের গাড়োয়াল রেঞ্জের মন্দাকিনী নদীর তীরবর্তী সন্নিকটস্থানে প্রায় বারোশ' বছরের প্রাচীন জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দির কেদারনাথ ধাম, এক শৈব তীর্থ ক্ষেত্র অবস্থিত।
কেদারনাথ নামটি প্রধানতঃ দু'টি শব্দের থেকে এসেছে, 'কেদার' অর্থে ক্ষেত্র বা স্থান ও 'নাথ' অর্থে প্রভূ অর্থাৎ এক্ষেত্রে ঐ স্থানের যিনি প্রভূ তাঁকেই বোঝায়, যেকথা 'কাশী কেদার মাহাত্ম' নামক পুরাণ গ্রন্থে বলা হয়েছে।
কেদারনাথে সুমেরুর প্রধান দুই শৃঙ্গ হল, কেদারনাথ ও কেদার ডোম, এই শৃঙ্গ দুটি 1947সালে আন্দ্রে রস ও তাঁর সহযোগীগণ জয় করেন।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থানগত কারণে কেদারনাথ মন্দির এলাকাটি চরম আবহাওয়ার ফলে শৈত্য প্রধান হওয়ায় শীতকালে বরফাচ্ছন্ন থাকে ও মন্দিরটি মাত্র ছয় মাস বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসের(এপ্রিল) অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথি(নভেম্বর) পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে।
কেদারনাথ মন্দির যে ছয় মাস বন্ধ থাকে ঐসময় মন্দিরে অবস্থিত বিগ্রহকে অপেক্ষাকৃত নিম্ন পার্বত্য এলাকার উখীমঠে বিশেষ উপায়ে নামিয়ে আনা হয় ও সেই ছয় মাস সেখানেই প্রভূর পূজার্চনা করা হয়।
* মহাদেবের জ্যোতির্লিঙ্গ রূপ ধারণ কাহিনী।
সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীগণের বিশ্বাস, 'ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, তিনে মিলে ঈশ্বর' এবং শিব পুরাণ অনুসারে ব্রহ্মা সৃষ্টিকর্তা, বিষ্ণু সৃষ্টি রক্ষাকর্তা ও মহাদেব সৃষ্টি বিনাশের দেবতা হিসাবে পরিগণিত হন।
দেবলোকে একদা ব্রহ্মা ও বিষ্ণুদেবের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ, তাই নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয় ও তার মীমাংসার জন্য উভয়ে প্রভূ মহাদেবের নিকট উপস্থিত হলে তিনি এক পরীক্ষার ব্যবস্থা করেন।
মহাদেব স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল জুড়ে এক অনাদি অনন্ত মহা গর্তের সৃষ্টি করেন ও বলেন, যে তিনি স্বয়ং ঐ গর্ত ব্যাপী এক জ্যেতির্লিঙ্গ রূপে অবস্থান করবেন এবং ব্রহ্মা ও বিষ্ণু সেই জ্যোতির্লিঙ্গের আদি ও অন্ত্যদেশ স্পর্শ করে আসবেন।
বিষ্ণু অন্ত্যদেশ তথা পাতালে বরাহরূপে ও ব্রহ্মা আদি তথা ঊর্ধ্বদেশ সন্ধানে পক্ষীরূপে গমন করলেন এবং কিছু কাল পরে বিষ্ণু ফিরে এসে জানালেন যে তিনি অন্ত্যদেশের সন্ধান পান নি, কিন্তু বহ্মা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমানে মিথ্যার আশ্রয় নিলেন ও নিদর্শন স্বরূপ একটি কেতকী পুষ্প দেখিয়ে বললেন তিনি ঊর্ধ্বদেশের সন্ধান পেয়েছেন এবং সেই পুষ্প তিনি সেখান থেকেই এনেছেন।
মহাদেবের স্বরূপই হল যে অনাদি-অনন্ত জ্যোতির্লিঙ্গরূপ, সে সম্পর্কে মিথ্যাভাষণ জনিত কারণে ব্রহ্মার পঞ্চমুখের একটি মহাদেব ছেদন করলেন ও অভিশাপ দিলেন যে ব্রহ্মা জগতে কোথাও কোন মন্দিরে পূজিত হবেন না ও কেতকী পুষ্প কোন দেবপূজায় ব্যবহৃত হবে না, যা আজও পালিত হয়।
* কেদারনাথ সহ পঞ্চ কেদার তীর্থক্ষেত্র।
(পঞ্চ কেদার তীর্থক্ষেত্র সৃষ্টির কাহিনী)।
7ম-8ম শতাব্দী প্রাচীন 'স্কন্দ পুরাণ' অনুসারে কেদারনাথ তীর্থক্ষেত্রের কথা জানা যায়, কিন্তু মহাভারতে এই তীর্থের উল্লেখ নাই, তাছাড়াও স্কন্দ পুরাণে বলা হয়েছে যে, পূণ্যতোয়া গঙ্গা নদী প্রভূ মহাদেবের জটাজাল থেকে এই কেদারনাথেই মুক্তিলাভ করেন।
পঞ্চ কেদার বলতে উত্তরাখণ্ডে গাড়োয়াল পার্বত্য অঞ্চলে পাণ্ডবগণ নির্মিত ও পূজিত পাঁচটি শিব মন্দিরকেই বোঝায়, যা আজও সমানভাবে পূজিত হচ্ছে, সেগুলি হল, 1)কেদারনাথ, 2) মধ্যমহেশ্বর, 3) তুঙ্গনাথ, 4) রুদ্রনাথ, 5) কল্পনাথ অথবা কল্পেশ্বর মন্দির।
উত্তরাখণ্ডের গাড়োয়াল অঞ্চলে পঞ্চ কেদার শিব মন্দির সমূহের উৎপত্তি সম্পর্কে অনেকগুলি লোকগীতির মাধ্যমে প্রচলিত প্রবাদ চালু রয়েছে, যার মধ্যে একটি হল নিম্নরূপ।
হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতে এই পঞ্চ কেদার সৃষ্টি সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় পাণ্ডব ভ্রাতাগণ ভ্রাতৃ হত্যা ও ব্রাহ্মণ হত্যা ও ছলনার আশ্রয় গ্রহণ প্রভৃতি জনিত কৃত মহাপাপ থেকে মুক্তিলাভের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের হাতে রাজ্যভার সমর্পণ করে, মহাদেবের তপস্যা করার সংকল্প নিয়ে পূণ্যধাম কাশীতে আসেন, কিন্ত তাঁদের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধকালীন কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট মহাদেব তাঁদের দেখা না দিয়ে, কাশীধাম পরিত্যাগ করে গাড়োয়াল অঞ্চলে গিয়ে বৃষরূপ তথা নন্দীর ছদ্মরূপ ধারণ করেন।
কাশীধামে মহাদেবের দেখা না পেয়ে পাণ্ডবগণ এই হিমালয়ের গাড়োয়ালে আসেন ও সেখানে মধ্যম পাণ্ডব ভীম দুই পর্বত চূড়ায় দুই পা দিয়ে দাঁড়িয়ে মহাদেবের সন্ধান করতে গিয়ে গুপ্তকাশী(মহাদেবের লুকিয়ে থাকার জন্য এরূপ নামকরণ) অঞ্চলে নন্দীর ছদ্মবেশে তৃণ ভক্ষনকারী শিবকে দর্শনমাত্র সনাক্ত করেন।
ভীম ষণ্ডরূপী মহাদেবের লেজ ও পিছনের পদদ্বয় সজোরে ধরে ফেললে, তিনি সেই স্থান থেকে অদৃশ্য হয়ে যান এবং খণ্ড খণ্ড রূপ ধারণ করেন এবং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পুনরায় খণ্ডিতরূপে আবির্ভূত হন।
সেগুলি হল, মহাদেবরূপী বৃষের কুঁজ বা পৃষ্ঠদেশ কেদারনাথ, সামনের পাদু'টি তথা বাহুদ্বয় তুঙ্গনাথ, নাভি ও পেট মধ্যমহেশ্বর, মুখমণ্ডল রুদ্রনাথ এবং মস্তকের কেশরাশি কল্পনাথ তথা কল্পেশ্বর রূপে পাঁচটি স্থানে আবির্ভূত হলে পাণ্ডবগণ মহাদেবকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে কেদারনাথে তপস্যা ও পূজার্চনা করেন ও ঐ পাঁচটি স্থানে মহাদেবের মন্দিরও নির্মাণ করেন।
মধ্যমপাণ্ডবের মহাদেবকে ধরে ফেলার ফলে তাঁর এই বিদীর্ণরূপ কেদার পর্বতের যে পাঁচটি স্থানে পুনরাবির্ভুত হয়, সেই স্থানগুলি পরবর্তীকালে পঞ্চকেদার নামে হিন্দু তীর্থক্ষেত্ররূপে গড়ে ওঠে এবং 7ম-8ম শতাব্দী প্রাচীন, দক্ষিনের তেষট্টি জন নায়নারগণের লিখিত শৈব স্তোত্র গ্রন্থ তাভারামে এই তীর্থক্ষেত্রের উল্লেখ রয়েছে।
* কেদারনাথ শৈব তীর্থক্ষেত্র।
হিমালয়ের গাড়োয়াল পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন কেদারনাথ শৈব তীর্থক্ষেত্র দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ শিব মন্দিরের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত যার উচ্চতা প্রায় 3,583মি/11,755ফুট ও উত্তর ভারতীয় হিমালয়ান স্থাপত্য শৈলীতে গঠিত।
কেদারনাথ ধাম, জেলার প্রধান শহর রুদ্রপ্রয়াগ থেকে প্রায় 86কিমি দূরে ছোট চার ধামের মধ্যে সর্বাধিক দুরত্বে অবস্থিত তীর্থক্ষেত্র।
কেদারনাথ তীর্থক্ষেত্র সরাসরি সড়কপথে গাড়িতে পৌঁছান যায় না, গৌরীকুণ্ড থেকে 22কিমি/14মাইল পার্বত্য চড়াই পথ ট্রেকিং করে যেতে হয়, অবশ্য বিকল্প হিসাবে খচ্চর(mule) বা পনি(pony) অথবা মাচান(মনুষ্য বাহিত) প্রভৃতি যান বাহনের সাহায্যেও মন্দিরে পৌঁছান যায় এবং প্রতি বছর হাজার হাজার পূণ্যার্থী ও ভ্রমণকারী এই পূণ্যধামে রোগমুক্তি, শান্তি ও বিভিন্ন প্রার্থনা নিয়ে এখানে আসেন।
কেদারনাথ মন্দির :- কেদারনাথ মন্দির কত হাজার বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছিল তা জানা না গেলেও, কিম্বদন্তী অনুসারে সেটি মহাভারতের যুগে পাণ্ডবদের তৈরী।
এছাড়া, বিদগ্ধ পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ণের লেখা "হিমালয় পরিচয়" গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, গুপ্ত যুগের শিলালিপিতে কেদারনাথ মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে।
তিনদিকে সুমেরু পর্বতমালা বেষ্টিত মন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তর নির্মিত যেস্থানে ভগবান শিব স্বয়ং অবস্থান করেন এবং মন্দিরের চারিপাশ সুউচ্চ (6000মিটারেরও অধিক) পর্বত চূড়া পরিবেষ্টিত হওয়ায় এখানে এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
কথিত আছে, প্রাচীনকালে সাধু-সন্তরা এই এলাকার ভৈরব পর্বতের চূড়া থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতেন ও যার ফলে তাঁরা দেহান্তের পর সরাসরি শিবলোকে গমণ করতেন, তাই এই প্রক্রিয়াকে "ভৈরব ঝম্প" বলা হত।
আদি শঙ্করাচার্যের সমাধি স্থলটি, যেখানে তিনি মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে দেহত্যাগ করে, চির শান্তিতে বিশ্রাম করছেন, সেটি মন্দিরের ঠিক পেছনেই রয়েছে, বলে ভক্তদের বিশ্বাস ও কেদারনাথ মন্দির থেকে সন্নিকটেই রয়েছে এক অতি প্রাচীন ভৈরব মন্দির যার কিছু দূরে সবুজ বনের মধ্যে কিছুটা ফাঁকা মাঠ ও গমণযোগ্য দূরত্বে অবস্থিত হিমবাহ(glacier) জলে পুষ্ট ছোট ছোট ঝর্ণা ধারা দেখা যায়।
কেদারনাথ মন্দির বেলা 3.00টা - 5.00টা অবধি বন্ধ থাকে, তাই যারা বিগ্রহ স্পর্শ ও ঘী মাখিয়ে অভিষেক করতে চান তারা দুপুর তিনটার যথেষ্ট পূর্বে পৌঁছানর চেষ্টা করুন, কারণ বিকেল পাঁচটার পর প্রভূকে রাজবেশে সজ্জিত করা হয়, সেসময় শুধুমাত্র দর্শন করতে পারবেন।
তবে যারা পাঁচটার পর পৌঁছাবেন, তারা সেদিন ফিরে যাবেন না, কারণ এলাকা মাঝে মাঝে বিদ্যুৎহীন হয় ও পথও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে সেদিন ধর্মশালা ইত্যাদিতে কাটিয়ে পরদিন সকালে প্রভূর মঙ্গল আরতি ও অভিষেক ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
* কেদারনাথধাম দুর্ঘটনা।
2013সালের জুন13 থেকে 17 তারিখ সারা উত্তরাখণ্ড জুড়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় ও তার ফলে পার্বত্য চোরাবারি হিমবাহ গলে চোরাবারি লেক ও মন্দাকিনী নদীর তীর ছাপিয়ে এক হড়পা বান সবেগে বিশাল পরিমাণে ভাঙা পাথর টুকরো ও বড় বড় পাথর ইত্যাদি মাথায় নিয়ে এলাকার উপর দিয়ে বয়ে যায় তার কারণে বহু বাড়ি-ঘর ধ্বংস হয়, ফলে স্থানীয় ও পূণ্যার্থী মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের উপর জীবন হানি ঘটে।
কেদারনাথ মন্দিরের সন্নিকটে, ভেসে আসা এক বিশাল পাথর অলৌকিক উপায়ে এমনভাবে আটকে যায় যে তীব্র বেগে নেমে আসা শিলাখণ্ডসহ সম্পূর্ণ বান মন্দিরের দুই পাশ দিযে বয়ে যায় ও প্রভূর মহিমায়, মন্দিরটি ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং বর্তমানে ঐ শিলাখণ্ডকে "ভীম শিলা"রূপে পূজা করা হয়।
তবে মন্দিরের চার দেওয়ালের মধ্যে একটিতে, উচ্চ পর্বত থেকে জলে ভেসে আসা প্রস্তর খণ্ডসমূহের ধাক্কায় দু'একটি ফাটলের সৃষ্টি হয়।
কিছু পরিবেশবিদের মতে, ঐ দুর্যোগের ফলে, সেতু ও রাস্তা মিলিয়ে ক্ষতি প্রায় 285মিলিয়ন ডলার, জলাধার জনিত ক্ষতি প্রায় 30মিলিয়ন ডলার ও রাজ্যের ট্যুরিজম্ সংক্রান্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় 195মিলিয়ন ডলার।
* কিভাবে যাবেন :-
সড়ক পথে :- হরিদ্বার, হৃষিকেশ ও দেরাদুন থেকে তীর্থযাত্রার ভরা মরসুমে(মে -অক্টো) বেস ক্যাম্প সোন প্রয়াগ অবধি দৈনন্দিন বাস চলাচল করে, এখানে উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা আছে, তাছাড়া গৌরীকুণ্ড পর্যন্ত ট্যাক্সি ভাড়াও পাওয়া যায়।
তীর্থযাত্রার ভরা মরসুমের শুরুতেই যারা ট্রেকিং করবেন তারা পথের মধ্যে মাঝে মাঝে হিমবাহের(glacier) কবলে পড়তে পারেন, যা খুবই বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ সেটির বরফ কতটা পুরু তা বলা সম্ভব নয়।
এছাড়া ফাটা - কেদারনাথ রুটে Pawan Hans Helicopter service এর ব্যবস্থাও রয়েছে(আবহাওয়া জনিত ও অন্যান্য শর্ত প্রজোয্য)।
* নিকটবর্তী দর্শনীয় স্থান :-
গান্ধী সরোবর(lake) যা চোরাবারি হিমবাহ পুষ্ট জলে ভরা থাকে সেটি মাত্র 3.5কিমিদূর(trekeable) এবং এই সরোবরে গান্ধীজির চিতাভস্ম বিসর্জন দেওয়া হয়।
সুধী পাঠকবৃন্দ! আশা করি লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। পরবর্তী লেখা, মধ্যমহেশ্বর কেদার ক্ষেত্র - 2। লেখাটি শেয়ার ও কমেন্ট করার অনুরোধ জানাই। ধন্যবাদ।